প্রতিটি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি

মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত! ‘ন ডরাই’ সিনেমার জন্য সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক শাখায় জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন তানিম রহমান অংশু। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

অনুভূতি...

এই প্রাপ্তির অনুভূতি নিঃসন্দেহে খুবই ভালো। আমি প্রচ- খুশি। তবে যে অনুভূতি তা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারছি না। ‘ন ডরাই’-এর প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি গর্বিত। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সবার স্বপ্ন। প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার জন্য তা পাওয়ায় উত্তেজনা দ্বিগুণ। জুরি বোর্ড, সেন্সর বোর্ড ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। আমার পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া কোনো কাজই সম্ভব হতো না।

পেছনের গল্প...

‘ন ডরাই’ ছয়টি শাখায় পুরস্কার জিতেছে। সবাই আমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কিন্তু এর পেছনের পরিশ্রমের গল্প খুব কম মানুষ জানেন। এটি প্রযোজক মাহবুবুর রহমানের ভাবনার ফসল। তাই আমার মতো তারও স্বপ্নের প্রজেক্ট এটি। তিনিও চেয়েছেন গল্পটি সর্বোত্তম করে দর্শককে দেখাতে। এজন্য আমরা প্রযোজক সংক্রান্ত ঝামেলা ছাড়াই কাজ করেছি। কিন্তু যে ধরনের গল্প, টিম ও বিশাল আয়োজনে বড় ইউনিট নিয়ে কাজ করেছি তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের কেউ এই ধরনের আইডিয়া নিয়ে কোনো গল্প করেনি। আমার প্রধান অভিনয়শিল্পীরা কেউই সেভাবে অভিজ্ঞ ছিল না, তার ওপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে হয়েছে তাদের। শুধু তাই নয়, কয়েক জনকে সার্ফিংয়ের মতো নতুন বিষয় আয়ত্ত করতে হয়েছে। সব প্রস্তুতির জন্য আমরা সময় পেয়েছিলাম মাত্র ৩ মাস। অভিনেত্রী সুনেরাহ সার্ফিং শিখতে গিয়ে পানিতে ডুবে গিয়েছিল! এমন অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই কাজটি করেছি।

বিতর্ক...

প্রতিবারই পুরস্কারের তালিকা ঘোষণার পর কোনো না কোনো বিতর্ক থাকেই। এবারও হচ্ছে। তবে আমার সিনেমার পুরস্কারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বলব, জুরি বোর্ড তাদের উত্তম সিদ্ধান্তটাই নিয়েছেন। কারণ, ন ডরাই শুধু একটি সিনেমা নয়! এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের এমন এক গোষ্ঠীর কথা বলেছি যাদের সম্পর্কে তেমন কেউ জানতই না। সার্ফিংয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে, নাসিমা নামের একজন নারী সার্ফারের মেধা ও সম্ভাবনার কথা বলেছি। নতুন কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে আমরা শোবিজে উপহার দিয়েছি। সুনেরাহর এটাই প্রথম অভিনয়, তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন এই সিনেমার জন্যই। এছাড়া কনটেন্টের মান, গল্প উপস্থাপন সব ক্ষেত্রেই বিশেষত্ব আছে বলে আমি মনে করি।

শিল্পচর্চা...

এত পরিচালক থাকতে আমার মতো একজন নতুন সিনেমা নির্মাতাকে এমন একটি চ্যালেঞ্জিং সিনেমার ভার দেওয়ার কারণ কী? এটা প্রযোজকের কাছে শুরুতেই জানতে চেয়েছিলাম। তিনি শুধু বলেছিলেন, তোমার মধ্যে এই বিষয়টিকে দেখার যোগ্যতা আছে! এই সিনেমার আগে আমি অনেকগুলো ডকুমেন্টারি ফিল্ম, নাটক, ধারাবাহিক, টিভিসি ও মিউজিক ভিডিও বানিয়েছি। কিন্তু আমার প্রথম সিনেমা ‘আদি’ এখনো মুক্তি পায়নি। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিম-লে বেড়ে ওঠা। বাবা-মা দুজনই গানের মানুষ। চাচা, মামা, ফুপা, ছোটভাই গান অথবা চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত। তাই শিল্পের কদর আমি ছোটবেলা থেকেই বুঝেছি।