পেছনে আরও এগোলো বার্সা!

আগের তিন ম্যাচ জয় ৪-০, ৪-০, ৩-০ গোলে। সেই দল নতুন উন্নীত কাদিজের মতো দলের কাছে ১-২ গোলে হেরে গেল! বিশ্রাম কাটিয়ে লিওনেল মেসি ফিরেছেন। তবুও নিজেরা একটি গোল করতে পারেনি বার্সেলোনা। সবগুলো গোলই প্রতিপক্ষ কাদিজের। চ্যাম্পিয়নস লিগে উড়তে থাকা দলটি লিগের ১০ ম্যাচে চতুর্থবার হারল। চার জয় ও দুই ড্রয়ে ১৪ পয়েন্ট তাদের। ৩৩ বছর পর প্রথম ১০ ম্যাচে এতটা বাজে অবস্থায় দলটি। ম্যাচ শেষে তাই কোচ রোনাল্ড কোম্যান বলেছেন, ‘এই হারে সামনে নয় পেছনের দিকে বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছি।’

কাদিজ যে এই প্রথম বড় দলকে হারাল তা না। লা লিগার অপর জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে গত ১৭ অক্টোবর ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। সেই সূত্রে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে বার্সারও ওপরে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে তারা। বার্সা সাত নম্বরে। আত্মঘাতী গোলে সেভিয়াকে হারানো রিয়াল ১১ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট তৃতীয় স্থানে। তাদের চেয়ে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল সোসিয়েদাদ। আর ভায়াদোলিদকে ২-০ গোলে হারানো আতলেতিকো মাদ্রিদ ১০ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।

কাদিজের মাঠে শনিবারের ম্যাচে সিংহভাগ সময়ই আধিপত্য ছিল বার্সার। বল দখলে ৮২ শতাংশ। কাদিজের ওপর মোট ২১টি আক্রমণ করে ৮টিই রেখেছিল পোস্ট বরাবর। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অন্যদিকে, মাত্র ১৮ শতাংশ পজেশন ও মাত্র ৭টি শট নিয়ে জিতে গেছে কাদিজ। মাত্র তিনটি ছিল নিশানায়। তার দুটি থেকেই গোল।

এক ম্যাচ বিশ্রাম কাটিয়ে দলে ফেরা মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ। ম্যাচে তার রেটিং এসেছে ১০ এ ৬। বিশ্রাম কাটিয়ে ফেরা গোলরক্ষক টের স্টেগেনও ৬ রেটিং পেয়েছেন। সবচেয়ে বাজে রেটিং এসেছে ফিলিপ কুতিনহোর, ৪। তারকাদের এমন পারফরম্যান্সে লিগের শুরুতেই শীর্ষে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১২ পয়েন্টে পিছিয়ে গেছে বার্সা। হতাশ কোম্যান তাই বলেছেন বলেন, ‘লা লিগা শিরোপার লড়াইয়ে পেছনের দিকে আমরা বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের এখন এটাই বলতে হবে। আতলেতিকোর মতো শক্ত দলের সঙ্গে ১২ পয়েন্টের দূরত্ব বিশাল।’

ম্যাচের শুরুতেই টের স্টেগেনের ভুলে গিমেনেজ কাদিজকে এগিয়ে দেন। ৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় বার্সা। জর্দি আলবার শট কাদিজ ডিফেন্ডার পেদ্রো আলকালার পায়ে লেগে জালে জড়ালে ৫৬ মিনিটে ম্যাচে ফেরে বার্সা। কিন্তু ৬৩ মিনিটে স্টেগেন বল ফেরানোর ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলভারো নেগ্রেদো।

হারের কারণ হিসেবে মনোযোগের অভাবকে দুষছেন কোম্যান, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো ছিলাম, তবে যেভাবে হেরেছি তা অবিশ্বাস্য। অনাকাক্সিক্ষত একটি ভুলে আমরা হেরেছি যেটা আপনি করতে পারেন না। মনঃসংযোগ ঠিক না থাকার কারণে এমনটা হয়েছে। মনোভাব আজ রাতে ভালো ছিল না, এবং এটা কেবল ডিফেন্ডারদেরই নয়। বল ছাড়া আমাদের আগ্রাসনেরও অভাব রয়েছে। এ কারণেই আমরা গোল খেয়েছি।’