মাদারীপুরের কালকিনিতে চুরির অপবাদ দিয়ে আসিক চৌকিদার নামে এক স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম ভাষাই তাকে লাঠি দিয়ে পেটান। গত শনিবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্কুলছাত্র আসিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন কমলাপুর বাজারের কালাই শিকদারের হার্ডওয়্যারের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু টাকা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়। এই চুরির ঘটনায় অভিযোগ এনে পূর্ব কমলাপুর গ্রামের হিমজাল চৌকিদারের ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আসিক চৌকিদারকে (১৫) ওই দিন রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান কালাই শিকদারের ভাই এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম ভাষাই। পরে ভাষাইয়ের ঘরে বসেই বোনজামাই আবু হাওলাদার, স্ত্রী পারভিন ও এমদাদ সরদারসহ ৮ থেকে ১০ জন মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আসিককে। খবর পেয়ে তার মা মনিরা বেগমে এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে অসুস্থ আসিককে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মা মনিরা বেগমকে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।
নির্যাতনের শিকার আসিক বলে, ‘জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই ঘণ্টা আমাকে পেটানো হয়েছে। ব্যথায় শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গেছে। দুদিন ধরে রাতে ঘুমাতেও পারি না।’ আসিকের মা মনিরা বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে ৮ থেকে ১০ জন মিলে নির্যাতন করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
অভিযুক্ত রেজাউল করিম ভাষাই পলাতক রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াদ মাহমুদ জানান, স্কুলছাত্র আসিকের শরীরের আঘাতের বেশ চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি আবদুল ওহাব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আমি যতটুকু জানি, তারা বিষয়টি সমাধান করেছে। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।