অনুমোদন পাওয়ার পরই গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের তৈরি করা করোনা প্রতিরোধী টিকা। টিকা হাতে পাওয়ার পর আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির পর আজ থেকে দেশটিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। গত বৃহস্পতিবার বেলজিয়াম থেকে ব্রিটেনে এসে পৌঁছায় ফাইজারের তৈরি করোনার টিকা। তবে টিকা আসার পুরো প্রক্রিয়াটি প্রথমদিকে গোপন রাখে ব্রিটিশ সরকার।
বেলজিয়াম থেকে ইউরো টানেল হয়ে ব্রিটেনে এসে পৌঁছায় ফাইজারের টিকা। কয়েকটি ট্রাকে করে এগুলো ব্রিটেনে আনা হয়েছে। সে সময় এগুলোর গায়ে কিছু লেখা ছিল না। এরপর ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের কিছু গোপন স্টোরেজে পাঠানো হয়।
দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মঙ্গলবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল মেডিকেল ডিরেক্টর প্রফেসর স্টিফেন পোয়িস বলেন, মঙ্গলবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে করোনা মহামারীর সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কম সময়েই এ কর্মসূচি শেষ হবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্টিফেন বলেন, যাদের এ টিকা প্রয়োজন তাদের সবাইকে টিকা দিতে অনেক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
করোনার সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মী, ৮০ বছরের বেশি বয়সী লোকজন ও কেয়ারহোমের কর্মীদের সবার আগে করোনার টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ইংল্যান্ডে টিকা দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০টি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালেই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডেও মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডন হাসপাতালে গত রবিবার প্রথমবারের মতো করোনা টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালেও টিকা পৌঁছে যাবে। জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথভাবে এ টিকা তৈরি করেছে ফাইজার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক করোনা টিকা প্রদানের এ কর্মসূচি শুরুর ঘটনাকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টিকাদান কর্মসূচিতে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এনএইচএসের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।