দেশের সব জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সব ম্যুরাল, ভাস্কর্য ও প্রতিকৃতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে জেলা-উপজেলা সদরে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদেশের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন।
এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, একাত্তরে যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই সাতই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়া মুজিববর্ষের মধ্যেই দেশের সব জেলা-উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করে আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে হবে। এ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি প্রতিবেদন গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষে আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ আদেশ আসে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। সম্প্রতি ভাস্কর্য নিয়ে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দলের বিরোধী অবস্থান এবং কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনা এলো। রিট আবেদনকারী আইনজীবী বশির আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ম্যুরাল তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ৩৮০টি উপজেলা এবং ৬৩টি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন করেছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সাতই মার্চকে ‘ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও ঐতিহ্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আদালতের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছিলাম। আদালত অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।’ ডি এ জি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সকল ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও প্রতিকৃতির নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলেছেন হাইকোর্ট।’