ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন

‘মিথ্যা’ মামলায় দুর্বিষহ কলেজশিক্ষকের পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মিথ্যা মামলার’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এক কলেজশিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। ভুক্তভোগী ঢাকার শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. বদরুল ইসলামের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কখনো না গিয়েও সেখানকার আদালতে একটি মানব পাচার মামলায় আসামি হয়েছেন তিনি। যেখানে মামলার বাদীরই কোনো হদিস মেলেনি। তাছাড়া আদৌ বাদীর কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, সেটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তার ও পরিবারের সদস্যদের জীবন।

লিখিত বক্তব্যে বদরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৮ নভেম্বর আমি জানতে পারি কুলছুমা আকতার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী আমাকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, আমিসহ অন্য আসামিরা বাদীকে মালদ্বীপ পাঠানোর কথা বলে ভারতে পাচার করে দিই। পরে গত ২৪ মার্চ বাদী ভারত থেকে ফিরে আসেন এবং পাঁচ মাস পর ২০ আগস্ট আমার বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলাটি করেন। পরবর্তীকালে সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে আমিসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিচারক। অথচ মামলার বাদী ও আসামিদের কাউকেই আমি চিনি না। আমি জীবনে কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কলেজের শিক্ষক আবু নাঈম মো. রাফি, নুরুন্নাহার বেগম, বাদল চন্দ্র অপু শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নিং বডিতে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা কলেজের নামে জমি কেনাসহ বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ওইসব কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে কলেজের বড় ধরনের আন্দোলনও গড়ে উঠে। কলেজের অর্থ তছরুপের বিষয়ে আমিসহ অন্য শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করি। সেজন্য ওই তিন শিক্ষক আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। কলেজ ক্যাম্পাসে আমাকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আমার ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে। মিথ্যা মানব পাচারের মামলার কারণে সত্যি সত্যি এখন আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। মামলার কারণে আমি কিছুদিন বাড়িতেও থাকতে পারিনি। আমি এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই, পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই।’