কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই মাদ্রাসাছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে এবং দুই শিক্ষককে ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে গত সোমবার গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করে ছাত্রদের ১০ দিন করে এবং শিক্ষকদের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক নিশিকান্ত সরকার। গতকাল শুনানি শেষে আদালত দুই ছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদের (২০) ৫ দিন করে এবং শিক্ষক মো. আল আমীন (২৭) ও ইউসুফ আলীর (২৭) ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। তারা সবাই কুষ্টিয়ার জুগিয়া এলাকার ইবনে মাসউদ (রা.) মাদ্রাসার।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অনুপ কুমার নন্দী জানান, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে গত সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতের বিচারক রেজাউল করীমের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত গতকাল মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে ওইদিন আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। গতকাল ছুটিজনিত কারণে রেজাউল করীমের পরিবর্তে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শেষে কওমি মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর ৫ দিন এবং দুই শিক্ষকের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে না থাকায় তারা নিজেরাই আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাদের কথা বলেন।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের বিরোধিতার মধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া পৌর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে তা সবার নজরে আসে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার রাত সোয়া ২টার পর টুপি মাথায় পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত দুজন পায়ে হেঁটে এসে বাঁশের মই বেয়ে উঠে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দীন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এরপর ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার দুই ছাত্র এবং তাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।