করোনা মহামারীর আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে সংঘটিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শূন্য সহনশীল নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ‘চুনোপুঁটি’ টানাটানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেছে টিআইবি। ওই বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ক্ষমতাবানরা এখন ‘বিচারহীনতা উপভোগ’ করছে। কারণ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘চুনোপুঁটিদের’ নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে।
সংস্থাটি বলছে, সুশাসনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি, গণমাধ্যম ও দেশবাসীর স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কভিড-১৯ সংকটের মধ্যে যেসব অভাবনীয় ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে দুর্নীতি যে দেশে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে এটাই এখন অপ্রিয় সত্য। এ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কী করণীয় আছে সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা থাকলেও এখনকার বাস্তবতায় তা কী অর্থ বহন করে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। আমরা দেখতে পাচ্ছি এই ঘোষণার বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে শুধু চুনোপুঁটিদের টানাটানিতে। অথচ এই পর্যায়েই দুর্নীতির যে ভয়াবহতার কথা আমরা জেনেছি, তাতে এ প্রক্রিয়ার মূল কারিগর যারা পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে, তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও আর্থিক মূল্য কী হতে পারে, সেটা চিন্তা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়।
তিনি বলেন, ‘একজন ছাত্রনেতার হাজার কোটি টাকা পাচার করার খবর দিয়েছে গণমাধ্যম মাত্র কয়দিন আগে। আরও ওপরের দিকের দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবস্থা তো আমাদের কল্পনারও বাইরে। অথচ তাদের কারও বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থার খবর তো আমরা কখনো দেখিনি!’ ‘রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক অন্য যেকোনোভাবে ক্ষমতাবানরা বিচারহীনতা উপভোগ করছে’ এমন অভিযোগ করে ড. জামান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক্ষেত্রে কার্যত ক্ষমতার বি-টিমের ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতি দমন ও এর কার্যকর প্রতিরোধে দুদককে কাগুজে বাঘের পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (দুদক) প্রধানের মেয়াদপূর্তি আসন্ন এবং দুদককে কার্যকর সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সৎ, যোগ্য, নিরপেক্ষ, নেতৃত্ব গুণাবলিসম্পন্ন দৃঢ়চেতা ও পেশাদার নেতৃত্বের নিয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সরকার আমাদের হতাশ করবে না।