সাত বছরের শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন হবিগঞ্জের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনাল-৩ এর বিচারক মো. হালিমুল্লাহ চৌধুরী। বুধবার বিচারক এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে- মাধবপুর উপজেলার শিবজয় নগর গ্রামের তাউস মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া (২৫) ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র রাসেল উদ্দিন ওরফে কাটা রাসেল (২৮)।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারায় এবং দণ্ড বিধির ৩০২ ধারায় পৃথক পৃথক কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ওই টাকা আদায় করে ভিকটিমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. ফজলে আলী জানান, ২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শিবজয় নগর গ্রামের জনৈক শাবাশ আলীর ৭ বছরের স্কুল পড়ুয়া ছেলে শাহপরান শিবজয় নগর বাজারের জনৈক বাছিরের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে টিভি দেখছিল। এরপর সে বাড়ি ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শাবাশ আলী মাধবপুর থানায় একটি জিডি করেন।
এদিকে, অভিযুক্ত জালাল মিয়া অজ্ঞাতস্থান থেকে মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শাবাশ আলীর কাছে। বিষয়টি মাধবপুর থানায় জানানো হলে দারোগা মমিনুল ইসলাম নিজে বিকাশ এজেন্ট সেজে জালালকে ফোন করে জানান যে, দুই লাখ টাকা এক সঙ্গে দেওয়া যাবে না, তাই তাকে আরও কয়েকটি নম্বর দিতে হবে। উক্ত প্রস্তাবের পর জালাল তার অপর সহযোগী কয়েকজনের মোবাইল নম্বর দেয়। ওই নাম্বার গুলো ট্রেকিং করে ৮ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থেকে জালাল মিয়া ও তার বন্ধু রাসেল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে। আসামি রাসেল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিবজয় নগর গ্রামের জনৈক ইউপি সদস্য আবুল মিয়া মেম্বারের ধান খেত থেকে শিশু শাহপরানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পড়নের জ্যাকেট ও জুতা ওই গ্রামের জনৈক বাহার মিয়ার বসত গৃহের নিকট পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে শাবাশ আলী মাধবপুর থানায় জালাল, রাসেল ও বাহারকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বাদী পক্ষে ১৫জন ও আসামি পক্ষে ৯জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে উপরিউক্ত রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিল। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি আসাদুজ্জামান তারণ।