প্রধান সূচকগুলোতে অগ্রগতি এনআরবিসি ব্যাংকের

২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমালের নেতৃত্বে নতুন পর্ষদ গঠিত হয় এনআরবিসি ব্যাংকে। আর এই তিন বছরেই ব্যাংকটির বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি দেখা গেছে। এ সময় আমানতের পরিমাণ ৭১ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি ঋণ বিতরণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খেলাপি ঋণ আন্তর্জাতিক মানদন্ডের কাছাকাছি রাখতে পেরেছে। এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিকাশের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর উপশাখা সেবা চালু করেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল।  

করোনাকালীন সময়ে এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) প্রত্যন্ত অঞ্চলের কটেজ, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্রশিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা প্রদান করছে। ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য অফলাইন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড অনলাইন সেবা চালু। এতে ব্যাংকের করপোরেট সুশাসন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সহজ হবে। সংবাদ সম্মেলনে পারভেজ তমাল বলেন, ২০১৮ সালে এনআরবিসি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের নভেম্বর শেষে ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৪ হাজার ৮১১ কোটি টাকা থেকে ৭ হাজার ২৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিচালন মুনাফা ১৯০ কোটি টাকা থেকে ২৫৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ সময় ব্যাংক হিসাবের সংখ্যাও দ্বিগুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০১৯ সাল শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি। আশা করছি, এ বছরও একই সীমায় থাকবে। আমরা আগামী বছরের জন্য ইতিমধ্যেই ৬০ কোটি টাকা প্রভিশন হিসেবে আলাদা করে রেখেছি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল ছাড়াও পরিচালক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এ এম সাইদুর রহমান, উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, অতিরিক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তালহাসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পারভেজ তমাল বলেন, এনআরবিসি ইতিমধ্যে সারা দেশে ৩৬৭টি উপশাখা চালু করা হয়েছে, যার ৯০ শতাংশ গ্রামে অবস্থিত। গরিব মানুষের সহযোগিতায় ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকিংসেবা প্রদানের পাশাপাশি বিআরটিএ লাইসেন্স, ইটিআইএন, অনলাইন জমি  রেজিস্ট্রেশন অর্থ আদায় কার্যক্রমে এনআরবিসি ব্যাংক বছরে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করছে। এ ছাড়া বিদেশি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে আজ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকটিকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ই-কেওয়াইসিসহ ঋণ দেওয়া ও ঋণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অফলাইন থেকে ব্যাংকিং সেবা অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাংকে করপোরেট সুশাসন ও কমপ্লায়েন্স পরিপালন সহজ হবে। আমাদের প্রধান কাজ জনগণের আমানতের সুরক্ষা, স্বচ্ছ বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগ থেকে আয় করে তা আমানতকারীদের মুনাফা হিসেবে প্রদান করা। এর জন্য সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পারভেজ তমাল বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকের উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসীদের অর্থ দেশের বিনিয়োগে নিয়ে আসা ও রেমিট্যান্স বাড়ানো। কিন্তু আমাদের ব্যাংকের লাইসেন্স দেশের অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো। ফলে প্রবাসীদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বাধার মুখে পড়ছি। এক্ষেত্রে অ্যাক্ট-১৯৪৭ বাধা তৈরি করছে। এই আইন অনুযায়ী কোনো প্রবাসী দেশের সীমান্ত পার হলেই তার ব্যাংক হিসাব সচল থাকে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, যাতে বিদেশে থাকাকালীন সময়েও প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব সচল থাকে। এতে এক কোটি প্রবাসী উপকৃত হবেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংক সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের ঋণ দিচ্ছে।  বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থা এনজিওর মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মানুষের সেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বুথ ও উপশাখা স্থাপন করছে ব্যাংকটি। ইতিমধ্যে দেশের ৫৫০টি পয়েন্টে এনআরবিসি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের এমডি মো. মুখতার হোসেন বলেন, করোনাকালে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংক নিজস্ব উদ্যোগেও ঋণ দিচ্ছে। করোনাকালে ২০২০ সালে অনেক কঠিন ছিল। তবে আগামী বছর কেমন হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়তে পারে। তবে পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নিয়েছি।