শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল উডল্যান্ডে চিকিৎসাধীন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ উন্নতি হলেও তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ভারতের এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, ৭৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিকের চিকিৎসায় ১১ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে এক বুলেটিনে চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। রক্তচাপ ও পালস রেট স্বাভাবিক আছে। বুধবার গভীর রাতে তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে এখনো সংকট কাটেনি।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিওপিডির সমস্যায় ভুগছেন। স্বাস্থ্যগত কারণেই শেষ পাঁচ বছর তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এরই মধ্যে গত বুধবার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অচেতন থাকায় প্রথমে তাকে বাইপ্যাপ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে দেওয়া হয় ভেন্টিলেশনে।
গতকাল মেডিকেল বোর্ড জানায়, আপাতত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ভেন্টিলেশনেই রাখা হবে। তবে এ ভেন্টিলেশন সাপোর্ট ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করা হবে। আপাতত তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। খাওয়ানো হচ্ছে রাইল্স টিউব দিয়ে। তবে জ্ঞান ফেরার পর চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বুদ্ধদেব।
চিকিৎসকরা আরও জানান, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রক্তে পটাশিয়াম, শ্বেতকণিকার মাত্রা নিয়ে চিন্তিত তারা। অন্যদিকে, অক্সিজেনের মাত্রার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বুধবার হাসপাতালে ভর্তির সময় অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭০ থাকলেও তা বেড়ে বৃহস্পতিবার হয়েছে ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ। এর বাইরে রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য মাপকাঠি স্থিতিশীল। রক্তের বিভিন্ন উপাদানসহ অন্যান্য পরীক্ষায় তেমন কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি।
এদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) এ নেতার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর পেয়ে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য ও কন্যা সুচেতনার সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।