পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলা বিচারিক আদালতে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। একই মামলার আসামি মিজানের ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের জামিন শুনানিকালে এ আদেশ আসে। আদেশে মাহমুদুলকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।
আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত আসামি মাহমুদুলকে জামিন দিয়ে আদেশের ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।’
এই মামলায় গত বছরের ১ জুলাই উচ্চ আদালতে আগাম জামিন চাইতে এলে মিজানকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করতে এবং তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।
৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৪ জুন মিজানুর রহমান তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে মাহমুদুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পাশাপাশি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা (বর্তমানে বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছির মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও বক্তব্য দেন মিজান। ওই বছরের ২৫ জুন ডিআইজির পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে ১৯ জুন ঢাকার একটি আদালত এক আদেশে তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।