হৃদরোগের চিকিৎসা শেষে ৫৯ দিন পর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি কার্যালয়ে যান। এখন থেকে নিয়মিত কার্যালয়ে বসার আশাবাদ ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, ‘নিয়মিত কার্যালয়ে আসার চেষ্টা করব, যদি শরীর সাপোর্ট দেয়।’ রিজভী অসুস্থ হওয়ার পর দপ্তরের সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয় ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে। গতকাল সারা দিন প্রিন্স কার্যালয়ে ছিলেন। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
নেতাকর্মীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় রিজভী লাঠি হাতে ধীরগতিতে সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় ওঠেন। পরে নিজের দপ্তরে বসে নেতাকর্মী, অফিসকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সবাই তার স্বাস্থ্যের খবর নেন। রিজভীও নেতাকর্মী ও অফিসকর্মীদের পরিবারের লোকজনের খবর নেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে দিনের বেশিরভাগ সময় কার্যালয়েই কাটাতেন রিজভী। করোনাকালেও তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে বসতেন। মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন জেলায়। আবার ফিরে আসতেন কার্যালয়ে। দলের দাপ্তরিক কাজ সারতেন, দলের হয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করতেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে জামিন হওয়ার আগ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও দলীয় কার্যালয় ছেড়ে যাননি। নেত্রীকে জেলে রেখে নিজে বাসায় আরামে ঘুমাবেন না এমন প্রত্যয় ছিল এ নেতার। পরে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেলে বাসায় ফেরেন।
এদিন রিজভীর হঠাৎ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগমনে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। কাছাকাছি থাকা কয়েকজন নেতাকর্মীও ছুটে আসেন তার সঙ্গে দেখা করতে। রিজভী এ সময় অসুস্থতার দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন। অসুস্থ অবস্থায় তার খবর নেওয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন অনেকটাই সুস্থবোধ করছি। রিং পরানোর পর আমাকে অনেক সতর্কতার সঙ্গে চলতে হচ্ছে। যেটি আগে কখনই আমি করিনি।’
গত ৩ ডিসেম্বর রিজভীর স্ত্রী আরজুমান আরা বেগম ও শ্যালিকা তাহমিনা বেগমের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর থেকে রিজভী অন্য একটি বাসায় আছেন। রিজভী জানান, ‘তার স্ত্রী ও শ্যালিকা সুস্থ আছেন, তেমন কোনো উপসর্গ নেই। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন তারা।’