জামিন বাতিল

আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাপুলের স্ত্রী ও মেয়েকে

সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ দুজনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। গত ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে সেলিনা ইসলাম, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। তবে জেসমিনের জামিনের আবেদনটি গতকাল কার্যতালিকায় আসেনি।

দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। জেসমিনের বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি (জেসমিন) অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়নি। এ বিষয়ে আদালতে হলফনামা দাখিল করা হয়েছে।’

অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগের মামলায় কুয়েতের কারাগারে বন্দি রয়েছেন পাপুল। পাপুল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর স্ত্রী সেলিনা  ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করিয়ে আনেন তিনি। মানব পাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পাপুলকে গত ৭ জুন গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। তদন্তের পর সেখানকার একটি ব্যাংকে জমাকৃত পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ফ্রিজ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের আদালতে পাপুলের মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর পাপুল এবং তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এসব কাজে তাকে পাপুল এবং তার  স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন। মামলায় জেসমিনের বিষয়ে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংকে তার প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই ৩৪টি এফডিআর হিসাব রয়েছে। গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে দুদকের দেওয়া চিঠিতে দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব হিসাব স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানানো হয়।