শীত বাড়ছে, বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আর মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর নভেম্বর মাসের পর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই ৫ থেকে ৬ লাখ করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুও হচ্ছে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার করে মানুষের। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মোট শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১ কোটি ১৫ লাখ। মৃত্যু অতিক্রম করেছে ১৬ লাখের মাইলফলক। এই সময়ের মধ্যে অবশ্য ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ আরোগ্য লাভ করেছে বিশ্বজুড়ে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এশিয়া, আফ্রিকা বা ওশেনিয়ায় এখনো তেমন আঘাত না হানলেও ইউরোপ ও দুই আমেরিকা মহাদেশে প্রবল আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে ইউরোপ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। দেখতে দেখতে মহাদেশটি আক্রান্ত ও মৃত্যুতে ছাড়িয়ে গেছে অন্য সব অঞ্চলকে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে যত করোনা রোগী মারা গেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। অথচ গত নভেম্বর মাসের শুরুতেও এই মহাদেশের শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দুই আমেরিকা ও এশিয়ার চাইতে কম ছিল।
ওয়ার্ল্ডমিটারসের তথ্যানুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ইউরোপে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৭ হাজার করোনা রোগী। মহাদেশটিতে মারা গেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ২০০ জন, যা বিশ্বের হিসাবে ২৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। উত্তর আমেরিকায় শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী। মহাদেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩১ জনের, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে গতকাল পর্যন্ত ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। অঞ্চলটিতে মৃত্যু হয়েছে আক্রান্তদের মধ্যে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ২২৮ জনের। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২১ দশমিক ১০ শতাংশ।
এশিয়ায় গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ২১৩ জন করোনা রোগী। মহাদেশটিতে মারা গেছে অন্তত ৩ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ জন মানুষ, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। আফ্রিকা মহাদেশে শনাক্ত হয়েছে ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬০১ জন। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৫৬ জনের। মহাদেশটিতে মৃত্যুর এই সংখ্যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
ওশেনিয়া মহাদেশে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৬১ জন। মহাদেশটিতে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৪ জনের, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ।
এদিকে দেশ হিসেবে করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট মৃতের দিক থেকেও প্রথমে রয়েছে দেশটি। আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তবে মৃত্যুর দিক দিয়ে তৃতীয়। মৃত্যুর দিক থেকে ব্রাজিল আছে দুই নম্বর অবস্থানে।
মৃত্যুর দিক থেকে এই তিন দেশের পরেই আছে মেক্সিকো। দেশটিতে মোট মৃত্যু লাখ পেরিয়েছে আরও কয়েক দিন আগেই। আক্রান্তের তালিকায় অবশ্য রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ। ইতালি সপ্তম। স্পেন অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম।