ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসে রাষ্ট্রপতি

অনুকরণের পরিবর্তে উদ্ভাবনের ওপর জোর দিতে হবে

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অনুকরণের পরিবর্তে উদ্ভাবনের দিকে নজর দিতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি উন্নয়নের হাতিয়ার। তথ্যপ্রযুক্তি হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। এর ফলে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও অগ্রগতির অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি বহুমুখী চ্যালেঞ্জেরও সৃষ্টি হয়েছে।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘চতুর্থ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির ফলে সৃষ্ট সব সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’ বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ-খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার দিক থেকে যুবসমাজকে যথেষ্ট দক্ষ ও উদ্যোগী উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এজন্য, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে, তারা দেশকে কাংখিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।’

কভিড-১৯ মহামারীকালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের একই সঙ্গে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দুনিয়া বদলে দেওয়া করোনা মহামারী মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে দূরে থেকেও আমরা পরস্পর সংযুক্ত থাকতে পারছি।’ চতুর্থবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপযাপনের এই আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে গ্রাম ও শহরের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাচ্ছে।’

গত তিন বছর ধরে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন করে আসছে আইসিটি ডিভিশন। এবার এর চতুর্থ আসর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘যদিও মানছি দূরত্ব, তবুও আছি সংযুক্ত’।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর একটা যুগসন্ধিক্ষণ হচ্ছে ২০২১ সাল। এই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে আমাদের নিরলস প্রয়াস চালাতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনে সফলতার পথ ধরে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের পথে আরও সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব এ প্রত্যাশা করছি।’

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের সফলতার পথ ধরে আমরা আরও সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারব।

অনুষ্ঠানে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ১৫ ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে শিশুশিল্পীদের একটি নাটিকার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ্, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম এবং বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট সচিবগণ। সূত্র : বাসস