‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ না থাকলে আজ কী হতো : সজীব ওয়াজেদ

গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর রূপকল্প বাস্তবায়ন করে বর্তমানে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছে তারই সুফল করোনাভাইরাস মহামারীর বিরূপ এই সময়ে দেশবাসী পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ না হলে এখন কী পরিস্থিতির মধ্যে দেশবাসীকে পড়ত হতো? গত শুক্রবার রাতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার, আইসিটি ডিভিশন অনলাইন কাজ করার প্রস্তুতি এই গত ১২ বছর ধরে নিচ্ছি। শুধু মহামারী যে হবে, এটা তো কেউ জানত না। আমাদের স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে আমরা ডিজিটাইজড হব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ হাজারের ওপর সরকারি অফিসকে কানেকশন দিয়েছি। যখন এই মহামারী আরম্ভ হয়, দুই মাসের মধ্যে আমাদের দেশকে বন্ধ করে দিতে হয়। তবে আমাদের সরকারি কার্যক্রম কিন্তু থামে নাই। তখন আমরা সম্পূর্ণ ই-নথিতে চলে যাই। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে চলে যাই। এই যে ডিজিটাল সিস্টেম আমরা করেছি, তাতে আমাদের দেশ চলতে থাকে। কোনো বাধা পড়ে না। ই-জুডিশিয়ারি সিস্টেমের কার্যক্রমও অতি শিগগিরই সম্পন্ন করা হয়, যাতে আদালতের কার্যক্রমও থেমে যায় না।’

এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ সে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এগিয়ে রাখেন বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, ‘আমি যে দেশে আছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রৃ তারা এখন আবার লকডাউনে সব বন্ধ করে দিচ্ছে, কারণ কভিড এখনো বাড়ছে এখানে। এ দেশে, বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশে আড়াই লাখের ওপর মানুষ প্রাণ হারিয়েছে কভিডে, কল্পনা করা যায় না। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৬ হাজার। ৬ হাজার প্রাণ যে হারানো হয়েছে, এটাও দুঃখের বিষয়। আমরা তাও চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এই তুলনাটা করে দেখেন। যারা মনে করে, আমরা একটা দরিদ্র দেশ, আমরা কিন্তু দরিদ্র দেশ না। আমরা কী পর্যায়ে এগিয়ে আছি, এ রকম মহামারীর মধ্যে। এটা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনায়।’ তরুণ-তরুণীরা নিজেরাই যেন কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিতে পারে তার জন্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান সজীব ওয়াজেদ।

একসেস টু ইনফরমেশন-এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।