করোনার কারণে পিছিয়ে ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০২১ হতে পারে আগামী ১৭ মার্চে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি মিললে রাজধানীর পূর্বাচলে নতুন ভেন্যুতে বসবে এবারের মেলা। এ জন্য চলতি সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। অনুমতি মিললে ডিসেম্বরেই কেবল রপ্তানি করে এমন প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র চাওয়া হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানকে মেলায় অংশ নিতে এ মাসেই দূতাবাসগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার ইপিবির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইপিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা মেলা পিছিয়েছি। মুজিববর্ষেই আমরা এই মেলা করতে চাচ্ছি। তবে মেলার নামে কোনো পরিবর্তন হবে না। অন্য সময় মেলা সামনে রেখে ছয় মাস আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। করোনার কারণে আমরা আড়াই মাসের মতো সময় পাব। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে দরপত্র ও দূতাবাসগুলোকে চিঠি দেব। করোনার পরিস্থিতি যদি মার্চে আরও অবনতি হয়, সে ক্ষেত্রে তখন নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে মেলা আয়োজন করবেন জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারের মেলা পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে হচ্ছে। তাই অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় সময় কম যাবে। এ ছাড়া স্টলও কম থাকছে। তাই চাপও কম। দরপত্র ও স্টল বরাদ্দ নিয়ে যেটুকু সময় যাবে। কেবল রপ্তানিযোগ্য প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেওয়ায় আগের মতো তেমন ভিড়ও থাকবে না। এতে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা অনেকটাই সহজ হবে।’
১৯৯৫ সাল থেকে জানুয়ারিতে এই মেলার আয়োজন করে আসছে ইপিবি। ২৫টি মেলা অস্থায়ীভাবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালে সেখানেই একটি স্থায়ী মেলা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তা স্থানান্তর করে রাজধানীর পূর্বাচলে করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পুরোপুরি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এত দিন আগারগাঁওয়েই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় আগামী মেলা রাজধানীর পূর্বাচলে স্থায়ী মেলাকেন্দ্রে আয়োজিত হবে।
দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও পণ্যের প্রচারণার কথা মাথায় রেখে তৎকালীন সরকার বাণিজ্যমেলার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আয়োজনের পর থেকে কখনোই এই মেলা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ রপ্তানিকারকদের। বিদেশি ক্রেতাদের আনতে ব্যর্থ হওয়া, নিম্নমানের স্থানীয় পণ্যের খুচরা দোকানদারদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে স্টল না দেওয়া, স্টল বরাদ্দে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ ছিল ব্যবসায়ীদের। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও ২৫তম মেলার উদ্বোধনকালে বলেছিলেন, ‘এই মেলা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নেই। তবে আগামীবার থেকে পূর্বাচলে এটি অনুষ্ঠিত হলে তখন থেকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানের চেষ্টা করা হবে।’
এবারের মেলায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইপিবি সচিব মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের থেকে এত দিন যারা স্টল নিয়েছে, তারাও কিন্তু রপ্তানি করে এমন ঘোষণা দিয়েই নিয়েছে। তবে এবার আমরা অনেক যাচাই-বাছাই করব। সর্বোচ্চ চেষ্টা করব রপ্তানিকারকদেরই কেবল স্টল দিতে। তা ছাড়া ওখানে (পূর্বাচল) নিম্নমানের খুচরা বিক্রেতারা সুবিধাও করতে পারবেন না। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমরা এবারের মেলায় সর্বোচ্চ মান এবং বিদেশি ক্রেতা উপস্থিতির চেষ্টা করব। কেবল সত্যিকারের রপ্তানিকারকরাই যাতে স্টল পান, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখব।’