ট্রল হয় তাদের নিয়েই যাদের মানুষ ভালোবাসে: সায়েদুল হক সুমন

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচিত। বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি অথবা দুর্ভোগের বিষয়গুলো নিয়ে ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি বেশ জনপ্রিয় হন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে দেশ রূপান্তরের একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন জুনায়েদ হাবীব, ছবি তুলেছেন আকমাল হোসাইন

বর্তমানে নাগরিক জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব কেমন বলে মনে করেন?

সায়েদুল হক সুমন: সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের সমাজে খুব বেশি পুরোনো না, বলতে গেলে এখনো নতুনই আমাদের জন্য। আমার মনে হয় না সোসাইটি এখনো পুরোপুরি বিষয়টিকে গ্রহণ করতে পেরেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটিই দিকই রয়েছে আমাদের সমাজ জীবনে। কেউ চাইলে ইতিবাচকভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, একই সঙ্গে কেউ আবার নেতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে সমাজে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। ধর্মীয় উন্মাদনা কিংবা কোনো গুজব সহজেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তাই আমি মনে করছি এটি নির্ভর করবে সরকার অথবা সরকারের যে সব প্রতিষ্ঠান এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা যদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে সবার মধ্যে জবাবদিহির জায়গাটা আরো পরিষ্কার হবে। এখন যেমন কোনো কিছু ভাইরাল হলে সঙ্গে সঙ্গে বিচার শুরু হয়ে যায়, এটি পুরোটাই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব। তাই সরকারের ওপরই নির্ভর করবে এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়াকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ লাগিয়ে তারকায় পরিণত হওয়া ব্যক্তি আপনি। এই পথে ভিন্ন ভিন্ন অনেক অভিজ্ঞতাই আছে আপনার। এই পুরো যাত্রাটা সম্পর্কে জানতে চাই।

সায়েদুল হক সুমন: অভিজ্ঞতা বলতে, ধরেন যদি কারো আমার একটা বক্তব্য পছন্দ না হয়, এমনও সময় গিয়েছ যে, আমার একটি ভিডিওর কারণে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ আমাকে জিডলাইক করেছেন, আবার এমনও হয়েছে, আমার একটি ভিডিও প্রায় ১০/১২হাজার মানুষ পছন্দ করেছেন,  আমাকে বিভিন্ন ভালোবাসার কথা বলেছেন, আমার জন্য দোয়া করেছেন। তাই এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে। সোশ্যাল মিডিয়া আসলে সমুদ্রের মতো উত্তাল একটি জায়গায়। এখানে হয়তো আপনি কখনো পানির আঘাতে আহত হবেন, আবার ভেসে থাকবেন। এই আপস অ্যান্ড ডাউন এর মধ্যে দিয়েই আমার পথচলা। তবে আমি বিশ্বাস করি ট্রল হয় তাদের নিয়েই যাদের মানুষ ভালোবাসে। আমি ট্রলটাকেও ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করছে তারাও আমার কিছু না কিছু ভালো দিক শিখতে পারছে। তাই আমার কাছ থেকে যদি কেউ কিছু শিখতে পারে বা সমাজের কাজে আসে তাহলে আমি কৃতজ্ঞ। যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করেন তারাও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু আবার যারা আমাকে ভালোবাসে তারাও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু। অনেক ট্রল দেখে আমি নিজেও মোটিভেটেড হয়েছি।

ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক কীভাবে দেখছেন?

সায়েদুল হক সুমন: এ ব্যাপারে আমার মত হচ্ছে ভাস্কর্য বা মূর্তি যাই,  বলেন না কেন এটা তো ইসলামিক ডেফিনেশন। তবে হঠাৎ করে এ ব্যাপারটা নিয়ে ইসলামি দলগুলোর এতটা উত্তেজনা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি, তার ভাস্কর্য ভাঙলে বা ছবিই ধরেন সেখানে আঘাত করলে আমাদের হৃদয়েও অবশ্যই আঘাত আসবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের দেশের আলেম-ওলামারা একটি সম্মানের জায়গায় আছেন, তারা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাবেন যাতে আমাদের জাতির জনকের প্রতি কোনো অসম্মানজনক কিছু না হয়।

আর তাদের কাছে ইসলামি শরিয়ায় অনেক যুক্তি রয়েছে, তারা চাইলেই কিন্তু একটা ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পারবেন।

আগাম কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই যুবলীগের আইন সম্পাদক হলেন। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

সায়েদুল হক সুমন: আমি যতটুকু জানি আমাদের নেত্রী এবং আমাদের চেয়ারম্যান মিলে সমাজের বিভিন্ন মানুষের জন্য যারা করে তাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছেন। এর অংশ হিসেবে তারাও হয়তো ভেবেছেন আমিও যেহেতু মানুষের জন্য কাজ করি, আন্দোলন করি তাই আমাকে দিয়ে হয়তো যুবলীগের সংবিধানে লিখিত নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্যাপারটি আমাকে দিয়ে সহজ হবে। এ কারণেই তারা আমাকে বেছে নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও অবস্থা সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

সায়েদুল হক সুমন: আসলে আমি সে রকমভাবে পূর্বপরিকল্পনা রেখে কিছু করি না। আমি যখন যে জায়গায় যাই, সেখানকার অনিয়মগুলো যদি তুলে ধরলে কোনো পরিবর্তন আসে সে ধারণা থেকেই আমার লাইভ করা। যেমন আজকে পোর্টটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে এটি একটি বিরাট সম্ভাবনার জায়গা। পোর্টকে কেন্দ্র করে একটি দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের জিডিপি খাতের বিরাট একটি অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ এই চট্টগ্রাম শহর থেকে আসে। আমি ভেবেছিলাম চিটাগং আরো বেশি ক্লিন সিটি হবে। পোর্টের আশপাশে দেখে আমার মনে হয়েছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এখানে ঘর-বাড়িগুলো হচ্ছে, পার্কিংয়ে কোনো শৃঙ্খলা নেই যে যার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকার হয়তো এ সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে হয়তো এ অবস্থার উন্নতি হবে।