বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এই সেতু তৈরি করা হয়েছে জনগণের টাকায়।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
পদ্মা সেতু নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সব সময় উন্নয়নের পক্ষে, আমাদের দলই হচ্ছে উন্নয়নের পক্ষে, সৃজনশীলতার পক্ষে। আমরা কখনোই কোনো নেগেটিভ রাজনীতি করি না। আমরা পজিটিভ পলিটিক্স করি। আমরা সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে চাই, আমরা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে চাই। সেটা বলতে গেলেই তাদের গায়ের মধ্যে জ্বালা ধরে যায়।’
‘বিএনপি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে না নিচ দিয়ে যাবে’Ñ তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘মনে হয় যে, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পদ্মা সেতু তৈরি করেছে। যেন এটা তাদের সম্পদ। এটা মানুষের পকেট কেটে কেটে কিন্তু নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি মানুষ এখানে ট্যাক্স দিচ্ছে। যেখানে এক টাকা ট্যাক্স দিত সেখানে ১০ টাকা ট্যাক্স দিচ্ছে।’
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরোধিতার বিষয়ে বিএনপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ দুটো। একটি হচ্ছে- মানুষের জীবন রক্ষা করা করোনার হাত থেকে, ভ্যাকসিন সরবরাহ করা এবং যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা করা, তাদের জীবন দান করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসা।’
গত শনিবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, নিম্ন আদালতের বিচারকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ মূলত একটি একদলীয় শাসনের দেশে পরিণত ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।’
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির মধ্যে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর ঠিক হচ্ছে না বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সামগ্রিক বিচারে সরকারের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২১ ডিসেম্বর সারা দেশে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ অথবা কালো পোশাক পরিধান করবে বিএনপি নেতাকর্মীরা।’
গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা হয়। সভায় মির্জা ফখরুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।