৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রিজার্ভ

প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনে ভর করে মহামারী করোনার মধ্যেও দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৯তম বিজয় দিবসের আগের দিন রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ০৯ বিলিয়ন (৪ হাজার ২০৯ কোটি) ডলার। গতকাল দুপুরের মধ্যেই রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এই রিজার্ভ দিয়ে ১০ মাসেরও বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ দশমিক ০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। এটি দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে এ ঘটনা অবশ্যই জাতির জন্য একটি উপহার।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর গত মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৩৯ কোটি ডলার। এরপর নয় মাস পার না হতেই রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল। প্রবাসী আয় ছাড়াও বিদেশি ঋণ সহায়তা ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ আছে তা দিয়ে ১০ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসের মধ্যে আছে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ইত্যাদি। আর ব্যয়ের বড় জায়গা হচ্ছে আমদানি ব্যয়, নানা ধরনের ঋণ ও দায় পরিশোধ। এর বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে চাঁদা দেয় বাংলাদেশ। দেশের ঋণমান নির্ধারণে রিজার্ভের গুরুত্ব রয়েছে। রিজার্ভ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরু থেকে সরকার বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোতে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে। চলতি ডিসেম্বর মাসেও বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ১০৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে মোট ১ হাজার ৯০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। আর চলতি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।