মিলাররা চাল না দেওয়ায় আমদানিতেই ভরসা দেখছে সরকার

আমন মৌসুমে মিল মালিকদের থেকে চাল কিনতে পারছে না সরকার। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে চালের দাম। এমতাবস্থায় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানিতেই ভরসা দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে দেড় লাখ টন চাল আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও আমদানি করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর বাইরে আরও তিন মহানগরীতে খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু হবে।

প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষক এবং মিল মালিক থেকে ধান-চাল কেনে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে দুই লাখ টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ছয় লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দামে পুষবে না জানিয়ে মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেনি। সরকারও সরাসরি কৃষকদের থেকেও এখন পর্যন্ত ধান কেনেনি। অন্যদিকে সরকারের সরবরাহ ক্রমেই কমে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে সরকার দেড় লাখ টন চাল আমদানির দরপত্র আহ্বান করেছে। এছাড়া ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে চাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করলে শুল্কসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৩৪ টাকা। কেজিপ্রতি থাইল্যান্ডের চালের দাম পড়বে ৪৫ টাকা।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিল মালিকরা আমাদের চাল দিতে রাজি হয়নি। আমাদের তো চাল কিনতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা দেড় লাখ টন আমদানির দরপত্র আহ্বান করেছি। প্রয়োজনে আরও আমদানি করব; কিন্তু কোনোভাবেই বাজারে চালের সংকট হয় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতে দেব না।’

সরকারকে চাল না দেওয়ার বিষয়ে রশিদ অটোর মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের ভূঁইয়া হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারে মণপ্রতি ধানের দাম ১২০০ টাকার ওপরে। কেজিপ্রতি চালে খরচ পড়ছে ৪০ টাকার বেশি। সেখানে ৩৭ টাকা দরে চাল বিক্রি করব কীভাবে? সরকার যদি মনে করে আমদানি করে পুষবে তাহলে সেটা করতে পারে। আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চুক্তি করেও গত বোরো মৌসুমে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেনি দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০০ চালকল মালিক। এই চালকলগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়। এসব মিলের জামানত বাজেয়াপ্ত, প্রণোদনা বাতিল ও আগামী দুই মৌসুম চাল সরবরাহ থেকে চুক্তির বাইরে রাখার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব চালকল সরকারকে চাল দিয়েছে তাদের প্রণোদনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রাজধানীর খাদ্য অধিদপ্তরের ন্যায্যমূল্যের দোকানে চাল বিক্রি চলছে। এসব দোকান থেকে শুক্রবার ছাড়া ক্রেতাপ্রতি ৫ কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে। তবে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি করতে চায় অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক আমজাদ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওএমএসের আওতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যেই একটি সিদ্ধান্ত আসবে।’ খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকেই ওই ৩ মহানগরীতে ওএমএস পাওয়া যাবে।