বিশ্বে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে দেড় লাখ মৃত্যু

বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছেই। বাড়ছে মৃত্যুও। গেল বছরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটি এক বছরের মধ্যেই ছড়িয়েছে বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৭ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৫৮১ জনের। এ সময়ের মধ্যে অবশ্য ৫ কোটি ১৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসজনিত রোগ  কভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছে।

গত বছরের শেষদিকে চীনে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর মার্চ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। একপর্যায়ে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনো বাড়ছে। অন্যদিকে ইউরোপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নভেম্বর মাস ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। চলতি ডিসেম্বর মাসেও বিশ্বে করোনার তাণ্ডব চলছে। মাসটির প্রথমার্ধে বিশ্বে শনাক্ত হয়েছে ৮৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪০০ করোনা রোগী। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৬ জনের। আলোচ্য সময়টাতে অবশ্য ৬৬ লাখ ৫ হাজার ৪২৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৭। মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৫৯ জনের।

আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৬। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ লাখ ১ হাজার ৯৯০। এর মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৭৪১।