কর্ণফুলীর ড্রেজিং ব্যয় ৩০ শতাংশ বাড়ছে

কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং ব্যয় ৩০ শতাংশ বাড়ানোর সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ (চবক) এ ব্যয় প্রস্তাব করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ নামে কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ, তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হলেও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। বিশেষ করে নদীর তলদেশে জমাট বেঁধে থাকা পলিথিনের কারণে খননকাজ এগিয়ে নিতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চীন থেকে শক্তিশালী সাকশন ড্রেজার এনেও পলিথিন সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের কাজ অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ে। এ অবস্থায় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় বন্দর কর্র্তৃপক্ষকে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পলিথিনের কারণে খননকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আগের প্রকল্প সংশোধন করে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর নতুন আরডিপিপি দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প যাচাই কমিটির সময় এ ব্যয় আরও কমাতে বলা হয়। পরে এটি বুয়েট পরামর্শক টিমের কাছে পাঠানো হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা সমীক্ষা প্রতিবেদন দেয়। এতে প্রকল্প ব্যয় ৭২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩১৪ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়। এরই ভিত্তিতে আরডিপিপি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর আড়াই কিলোমিটার এলাকা চার মিটার গভীরতায় খনন করে ৪৩ লাখ ঘনমিটার পলি ও মাটি তোলার কথা। কিন্তু সাকশন ড্রেজার দিয়েও খননকাজে ব্যর্থ হলে বুয়েটের একজন ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয় নৌবাহিনী। বুয়েটের সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্ণফুলীর তলদেশে ২ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত কয়েক স্তরে জমাট বাঁধা পলিথিন রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় পলির পরিমাণও বেড়েছে। এগুলো অপসারণে গ্র্যাব শিপ ব্যবহার করতে হবে, যে কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। কর্ণফুলীর নাব্যতার ওপর এ বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া ও পণ্য খালাস নির্ভরশীল। কিন্তু তলদেশে বিপুল পরিমাণ পলি ও পলিথিন জমা এবং সঠিকভাবে ড্রেজিংয় না হওয়ায় নদীটি নাব্য সংকটে পড়েছে।

এর আগে ২০১১ সালে ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং করপোরেশনের (এমএমডিসি) মাধ্যমে কাজ শুরু করে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। কাজ শেষ না করেই তারা মাঝপথে চলে যায়। বন্দর কর্র্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এরপর আইনি জটিলতায় প্রায় ৫ বছর বন্ধ থাকে ড্রেজিং কাজ। এতে কর্ণফুলীর মোহনা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পলির স্তরে চর জাগে। এ অবস্থায় ২০১৮ সালে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ নামে নতুন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু করে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু এবারও তলদেশে জমে থাকা পলিথিনের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ড্রেজিং।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশ রপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী নদী। ভরাট ও দখলে এখন নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। নাব্য ফিরিয়ে নদীকে আগের চেহারায় আনতে হলে দ্রুত ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’