গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখারই বিএনপির এবারের শপথ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আজকে আমাদের বাকস্বাধীনতা নেই, মৌলিক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। আজকে আমরা বিজয় দিবসে সেজন্য শপথগ্রহণ করেছি।’
গতকাল বুধবার সকালে সাভারে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেলে বিএনপির উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এছাড়া বিজয় দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে জেলা নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরে আলোচনা সভা করেন।
সকাল ৯টার পর মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, অবশ্যই এদেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখব। অবশ্যই আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মুক্তি আমাদের মেলেনি, সেই মুক্তির জন্যই আমরা সংগ্রাম করছি।’
সাভার থেকে ফিরে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় মির্জা ফখরুল সেখানে বলেন, ‘আজকে দেশে একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জনগণ আজকের দিনে আবার নতুন করে শপথ গ্রহণ করছে যে, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তারা অবশ্যই দেশকে মুক্ত করবে, মানুষের গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। তাই একটি নিরপেক্ষ সরকারের নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা শপথগ্রহণ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল বাংলাদেশের মানুষ, তা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেতনা। দুর্ভাগ্য আমাদের, ১৯৭৪-৭৫ সালে আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আজকে দীর্ঘ ১০ বছর তারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে মানুষের যে মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, তার যে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, সংবাদপত্রের যে স্বাধীনতা, তাকে ধ্বংস করে দিয়ে আজকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।’
ফখরুলের ভাষায়, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কাজে তারা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে।’ এ জন্য আওয়ামী লীগের সরকারকে একটি ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন বিএনপি মহাসচিব।
জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমিনুল হক, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান শিমুল, আকরামুল হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, কাজী আবুল বাশারসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর একে একে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও নও সালাম’ স্লোগান দিয়ে জড়ো হন।