নভেম্বরেও ইন্টারনেট গ্রাহক হারিয়েছে অপারেটররা

করোনাভাইরাস আতঙ্ক কাটিয়ে নিয়মিত জীবনযাপনে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে দ্বিতীয় মাসের মতো নভেম্বরে কমেছে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী গত মাসে ২ লাখ ১ হাজার ইন্টারনেট গ্রাহক হারিয়েছে টেলিকম অপারেটররা। অক্টোবরে কমেছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার গ্রাহক। নভেম্বর শেষে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজারে। এক মাস আগে এ সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ২১ লাখ। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা ৮৬ লাখ ৫৬ হাজারেই অপরিবর্তিত রয়েছে।

টেলিকম অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলমান থাকলেও ধীরে ধীরে নিয়মিত দিনযাপন শুরু করেছে মানুষ। এতে কমেছে অনলাইন নির্ভরতা। মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা হ্রাসের পরিসংখ্যান এ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে করোনা সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিগত ও অফিসের প্রয়োজনে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে মানুষ। এতে এ সময় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ে ২৮ লাখ ৬০ হাজার। চলতি বছরের অক্টোবরে মোবাইল অপারেটরগুলোর  সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বেড়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার। এর বিপরীতে নভেম্বরে বেড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার।

এ বৃদ্ধির কারণে দেশে মোবাইল ফোন সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বেড়ে ১৬ কোটি ৮৪ লাখে দাঁড়াল। অক্টোবরে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮১ হাজার। গত মাসে টেলিকম  কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবার বেড়েছে রবি-আজিয়াটার। এ সময় টেলিকম অপারেটরটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬ লাখে। অক্টোবরে অপারেটরটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৪ লাখ। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী নভেম্বর শেষে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৮ হাজার বেড়ে উন্নীত হয়েছে ৭ কোটি ৮১ লাখে। এ সময় বাংলালিংকের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৯৮ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ কোটিতে। অক্টোবরে ছিল ৩ কোটি ৪৯ হাজার সাবস্ক্রাইবার। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা অক্টোবরে ৪৬ লাখ ১৮ হাজার থাকলেও গত মাসে ১৩ হাজার বেড়ে হয় ৪৬ লাখ ৩১ হাজার।