২৫০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন হারে রোগী শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে নতুন রোগী শনাক্ত আশানুরূপভাবে কমেছে। গত এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষায় ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার গত ২৫০ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই দেশে নতুন রোগী শনাক্তে নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। শেষ তিন দিন শনাক্তের হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে। এদিন শনাক্তকৃত নতুন রোগীর সংখ্যাও গত ৫৪ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ১৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর এরচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

শনাক্ত কমে এলেও দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুতেই কমছে না। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাসের মধ্যে ২০ দিনই ৩০ বা তার বেশি করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২০ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ৩৩ জনের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৮৫তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১৪০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ১১২, জিন-এক্সপার্ট ১৮ ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ১০টি। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৭৭৬টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ১৯১টির। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ১৩৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ২৩৯ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ১৯২ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৯০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৫ ও সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৭ ও নারী ৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০, চট্টগ্রামে ৮, রংপুরে ৩, রাজশাহীতে ২ এবং খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২৯, ৫১-৬০ বছরের ৪, ৪১-৫০ বছরের ২ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। ৩৬ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৪৮৯ ও নারী ১ হাজার ৭০৩ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৩২ ও নারী ২৩ দশমিক ৬৮ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯২৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৩৮, খুলনায় ৫১৩, রাজশাহীতে ৪২২, রংপুরে ৩২৫, সিলেটে ২৮১, বরিশালে ২৩১ এবং সর্বনি¤œ ১৫৬ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭৯ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৬৩৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৫৩৩ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪০ হাজার ১২৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৭৬১টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৭১টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩০৩টিতে।