ভারতে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের কাছে অবস্থান নেওয়া কৃষকরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক দিন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর মধ্যেও কৃষকরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বিতর্কিত আইনগুলো বাতিল না হলে তারা ফিরবেন না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এদিকে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট চলমান কৃষক বিক্ষোভ বৈধ বলে জানিয়েছে। এই ইস্যুতে একাধিক পিটিশনের শুনানি করে আদালত জানায়, বিক্ষোভ চলতে দিতে হবে। তবে রাজধানী আটকে ফেলা যাবে না।
এনডিটিভি বলছে, টানা ২৩ দিন কৃষকরা সিঙ্গুতে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে ৩৭ বছর বয়সী এক পাঞ্জাবি কৃষকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে নভেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে ২০ জনের বেশি আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলো। বেশিরভাগ মৃত্যুই বাড়তে থাকা ঠাণ্ডা এবং উত্তর ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের কারণে।
কনকনে ঠাণ্ড বাতাসের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে আন্দোলনরত এক কৃষক বলেন, ‘আমরা ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে লড়ছি; আমাদের এই লড়াই চলমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের দাবি পূরণ হবে। এমনকি বৃষ্টি হলেও আমরা নড়ব না।’ ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে অনেক স্থানেই আন্দোলনরত কৃষকদের আগুন পোহাতে দেখা যায়। দিল্লি মহাসড়কের কাছে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের কম্বল ও হিটার দিয়ে সহায়তা করেন। অনেক এলাকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের শীতবস্ত্র কেনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ভারতের ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির ১৩০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কৃষকদের আশঙ্কা, নতুন এ কৃষি সংস্কার আইনগুলো ভারতের নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে এবং সরকারও ধীরে ধীরে নির্ধারিত মূল্যে গম ও ধান কেনা বন্ধ করে দেবে; যার ফলে তাদের ফসল বেচতে বেসরকারি ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে নামতে হবে।
আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও কৃষক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হলেও সেগুলোতে ফল হয়নি।
এদিকে গতকাল দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের কাছে কৃষক আন্দোলনের সমর্থক এক শিখ যাজক আত্মহত্যা করেন। হরিয়ানার একটি গুরুদ্বারের যাজক বাবা রাম সিং তার আত্মহত্যার নোটে ‘সরকারের অবিচারে ক্রুদ্ধ ও ব্যথিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া গতকাল দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে চলমান কৃষক বিক্ষোভকে বৈধ বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানি হবে জানিয়ে আদালত বলেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে সরকার আইন প্রয়োগের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বলেন, ‘কোনো আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মৌলিক অধিকারকে আমরা স্বীকার করি। তবে কারও জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি করা উচিত হবে না। ক্ষুব্ধ পক্ষগুলোকে সংহত হতে হবে।’