সিএনজি স্টেশন থেকে গভীর রাতে ‘গ্যাস চুরি’

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে সিএনজি স্টেশন থেকে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে গভীর রাতে কোটি টাকার গ্যাস বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সিএনজি স্টেশন থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার সরকারি কোনো অনুমতি নেই।

বিষয়টি অবহিত নন জানিয়ে তিতাস কর্মকর্তা মমিনুল হক বলেন প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল আজিবপুর এলাকায় রাইয়ান সিএনজি স্টেশন থেকে কমপক্ষে ২০টি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আজিবপুর বাগানবাড়ি এলাকার জাতীয় পার্টি নেতা মিছির আলীর ছেলে সৈকত আলী রনি এ কারবারের মূল হোতা। নারায়ণগঞ্জ তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে রাইয়ান কারখানাগুলোতে রাতের আঁধারে মাসে কমপক্ষে কোটি টাকার গ্যাস সরবরাহ করছে।

সরেজমিনে শুক্রবার রাত ১০টায় সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি গাড়িতে সারিবদ্ধভাবে সিলিন্ডার সাজিয়ে রাইয়ান সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিচ্ছে শিল্পকারখানার নিয়োজিত গাড়িচালকরা।

গ্যাস নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাড়িচালক জানান, প্রতি সপ্তাহে তিনি আদমজী ইপিজেডের ভেতরে একটি পোশক কারখানায় গ্যাস নিয়ে যান। ইপিজেডের আরো অনেক পোশাক কারখানা এই স্টেশন থেকে গ্যাস নিচ্ছে।

তবে তিনি পোশাক কারখানার নাম বলেননি।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইজিবাইক দিয়ে সিলিন্ডার ভরে গ্যাস নিতে আসা আরেক চালকও একই কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাইয়ান সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর এভাবে গ্যাস সরবরাহ করা অবৈধ স্বীকার করে জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকরা গ্যাস লাইন সংযোগ নিতে না পেরে আমাদের থেকে গ্যাস নিয়ে কারখানা চালাচ্ছেন। সৈকত আলী রনির কথায় গ্যাস সরবরাহ করছি।

সৈকত আলী রনির সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সাবাই এভাবে গ্যাস নিচ্ছে।

কারা নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কারো নাম বলেননি।

নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডিজিএম মমিনুল হক জানায়, সিএনজি স্টেশন থেকে বোতলে করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করা অবৈধ। কোন স্টেশন কর্তৃপক্ষ এভাবে গ্যাস সরবরাহ করছে জানতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।