ভবিষ্যৎ খাবারের উৎস শৈবাল

খাবারের বড় উৎস হিসেবে সামুদ্রিক শৈবালের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে ভারত। এরই মধ্যে তামিলনাড়ু রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে শৈবালের চাষ শুরু হয়েছে। শৈবালের পুষ্টিগুণ, চাহিদা, চাষপদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

সামুদ্রিক শৈবাল

তামিলনাড়ু রাজ্যে তীর্থযাত্রীদের জন্য রামেশ্বরাম নামে পবিত্র একটি স্থান আছে। এই জায়গাটির আরও একটি নাম পাম্বান দ্বীপ। এই দ্বীপে সমুদ্রের পানির রং একদম সবুজ রঙা পান্নার মতো। সমুদ্রের পানির এমন ঝকঝকে সবুজ রং হওয়ার কারণ পানির নিচের সামুদ্রিক শৈবাল। এই শৈবাল বর্তমানে সেই স্থানের ইকোসিস্টেম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এমনকি সেখানকার রান্নাবান্নার জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেড়ে ওঠা সামুদ্রিক শৈবালের ওপর ভর করে বেঁচে আছে উপকূলবর্তী বেশ কটি গ্রাম।

ভারতে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে শৈবাল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও খাবার হিসেবে শৈবাল এশিয়ার দেশগুলোতে কখনোই বড় কোনো জায়গা করে নিতে পারেনি। উপকূলীয় জনবসতিতে বেশ প্রাচীন পথ্য পাম্বান দ্বীপ, মান্নার উপসাগরের পানির নিচ থেকে তোলা এসব শৈবাল। এখানে, স্থানীয়রা প্রাচীন পন্থা মেনেই সমুদ্রের নিচের প্রাকৃতিক ও বন্য শৈবাল সংগ্রহ করে। এই গ্রামগুলোই ভারতকে শৈবাল চাষের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তৈরি করেছে। বৈশ্বিকভাবে এই শৈবাল দ্রুত খাদ্যের অন্যতম উৎস হতে যাচ্ছে। প্রতি বছর ৮ শতাংশ হারে এর ব্যবহার বাড়ছে।

ভারতের গবেষকরা অনেক দিন ধরেই টেকসই কৃষির ধারা হিসেবে শৈবাল চাষের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভারতের বেশির ভাগ উপকূল শৈবাল চাষের উপযোগী কারণ এসব এলাকা সাধারণত গরম আবহাওয়াপূর্ণ, এখানকার সমুদ্রের পানির গভীরতা বেশি আর পুষ্টিসমৃদ্ধিও। ইতিমধ্যে গুজরাট আর তামিলনাড়ু এলাকাগুলো দেশের উচ্চতম সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। তামিলনাড়ুর উপকূলরেখায় ১০০০ কিলোমিটার (৬২১ মাইল) এলাকা জুড়ে প্রায় ২৮২ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল রয়েছে। পুরো ভারতে প্রায় ৮৪১ ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল রয়েছে, যার খুব কম সংখ্যাই চাষ করা হয়।

খাবারের উৎস

সামুদ্রিক শৈবালের উপকারিতা বেশ। দিন দিন বিভিন্ন খাতে এর চাহিদা বাড়ছে। ভারতের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানে প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে কৃষিকাজ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেও আবার ৪৭ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি মাটির অবক্ষয়ের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতির ৩ শতাংশ আবার দায়ী পানিক্ষয়ের জন্য। অথচ সামুদ্রিক এই শৈবাল পানি সমস্যার সমাধান হতে পারে।

‘অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আয়োডিন, ভিটামিন ও প্রোটিনের নিখুঁত উৎস রয়েছে সামুদ্রিক শৈবালে।’ বলছিলেন দিল্লি ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিজ্ঞানী দীনবন্ধু সাহো। তিনি সব সময় চেয়েছেন ভারতীয় কৃষি খাতে অভূতপূর্ব এই বিপ্লব ঘটুক। হয়তো এই বিপ্লব খুব বেশি দূরেও নয়। এই গ্রীষ্মেই ভারতীয় সরকার আগামী পাঁচ বছর সামুদ্রিক এই শৈবাল চাষের জন্য ৮৭ মিলিয়ন ডলারের ঘোষণা দিয়েছে।

সামুদ্রিক শৈবালের পুষ্টিগুণ শস্য থেকে কোনো অংশেই কম নয়। গাছ যেভাবে ফটোসিন্থেসিসের মাধ্যমে পুষ্টি অর্জন করে, ঠিক সেভাবেই শৈবালও পুষ্টি পায়। শৈবাল কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, এই কার্বনকে শক্তির জন্য চিনিতে রূপান্তর করে এবং পানিতে অক্সিজেন পৌঁছায়। আগে ভাবা হতো, শৈবালে কার্বন জমে থাকে এবং সমুদ্রের পানিতে পচে যাওয়ার সময় এই কার্বন নির্গত হয়। কিন্তু সমুদ্রের একদম গভীরে মাটির ওপর যখন মৃত শৈবাল পাওয়া গেলে জানা যায় এগুলোর বেশির ভাগ সমুদ্রেই রয়ে যায় আর সমুদ্রের মাটিতে কার্বন জমে পলি উৎপন্ন হয়। সামুদ্রিক শৈবাল যে জলবায়ু পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ডেনমার্কের আরহাস ইউনিভার্সিটির শৈবাল বাস্তুবাদ ডর্টে ক্রজ-জেনসেন ও তার কলিগরা। কার্বন জমা করে রাখায় শৈবাল ফাইটোপ্ল্যাংকটনসহ সামুদ্রিক খাবারের ভালো একটি উৎস হয়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্যও খাবার ও আবাসস্থল হতে পারে।

যেভাবে চাষ শুরু হয়

নানা উপকারিতা থাকার পরও ভারতে সামুদ্রিক শৈবালের চাষ শুরু হয়েছিল খুব ধীরে। ১৯৮৭ সালের দিকে, ভারতের সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের ল্যাবরেটরি পার্ট সেন্ট্রাল সল্ট অ্যান্ড মেরিন কেমিক্যালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফিলিপাইনের স্থানীয় ‘কাপ্পাফাইকাস আলভারেজি’ নামে একটি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা শুরু করলে তখনই প্রথম ভারতে শৈবালের চাষ নিয়ে চেষ্টা শুরু করা হয়। যদিও শৈবাল চাষ বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প-কারখানায় আগার আগারের (খাবার, প্রসাধনী ও ল্যাবরেটরিতে বৃদ্ধি পাওয়া মাইক্রো-অর্গানিজম বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা জেলি) চাহিদা মেটানো।

সামুদ্রিক শৈবাল নিয়ে মান্ডাপামে ২৭ বছর ধরে কাজ করছেন সেন্ট্রাল সল্ট অ্যান্ড মেরিন কেমিক্যালস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেরিন আলগাল রিসার্চ স্টেশনের বিজ্ঞানী ঈশ্বর কে। তিনি বলেন, ‘গুজরাটের পোর্ট ওখাতে ল্যাবে ও মাঠে এক দশক ধরে কাজ করার পর তামিলনাড়–র মান্ডাপামে ১৯৯৭ সালে মাত্র ৫ গ্রামে শৈবালকে পরিচিত করানো হয়। এই ৫ গ্রামের শৈবাল গবেষণাই বছরের সেরা সাফল্য নিয়ে আসে। যার ফলাফল ধরেই পক প্রণালির কাছে ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) এলাকা জুড়ে শৈবাল চাষ করা শুরু হয়।  শুরুতে এই পরিমাণ বেশ অল্পই ছিল। ২০০০ সালের দিকে বৃহদাকারে শৈবাল চাষ শুরু হয় যখন থেকে সেন্ট্রাল সল্ট অ্যান্ড মেরিন কেমিক্যালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট পেপসিকো টেকনোলজিকে এগুলো চাষের লাইসেন্স দেয়। এই প্রতিষ্ঠানটি শৈবালকে শুধু খাদ্যশস্যই নয়, খাবার, প্রসাধনী ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য শৈবাল থেকে উৎপন্ন ক্যারেজিন্যান প্রস্তুত করতে বেশি উৎসাহী ছিল। এভাবেই ভারতে শৈবাল চাষের শুরু হয়।

চাষপদ্ধতি

২০০৮ সালে পেপসিকো শৈবাল চাষের কিছু অংশ বিক্রি করে দেয় অ্যাকোয়াএগ্রির কাছে। শৈবাল চাষ যে বাণিজ্যিকীকরণও করা যায়, সেই ঝুঁকি প্রথম নিয়েছিল এই কোম্পানিটিই। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির তামিলনাড়–তে ১৮টি শৈবাল চাষের এলাকা রয়েছে, যেখানে ৬৫০ জন মৎস্যজীবী কাজ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। শৈবাল চাষপদ্ধতি শুরুতে এক ধরনের থাকলেও এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আসায় ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বেশির ভাগ সময় নৌকায় করে কাছাকাছি কোনো দ্বীপে গিয়ে সেখানকার পানিতে নেমে পড়েন শ্রমিকরা। এভাবে তারা ৭-১০ ঘণ্টা লাগাতার পানিতে ডুব দেন আর প্রতিবার উঠে আসেন এক গুচ্ছ করে সামুদ্রিক শৈবাল মুঠোয় ধরে। কাজের দিনে তারা পোশাক আর জালের তৈরি থলে ছাড়াও সুরক্ষা-সরঞ্জামও সঙ্গে রাখেন। নৌকাচালকরা তাদের নিয়ে যান সেসব দ্বীপে, যেখানে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও শৈবাল পাওয়া যায়, নারীরা শাড়িকে ধুতির মতো কাছা দিয়ে পরে, জালের থলে কোমরে বেঁধে শাড়ির ওপর একটি টি-শার্ট পরে নেন। সুরক্ষা-সরঞ্জামের মধ্যে থাকে চোখকে রক্ষা করার জন্য চশমা, হাতের আঙুল রক্ষার জন্য আঙুলে প্যাঁচানোর কাপড়ের ফালি অথবা দস্তানা আর সমুদ্রপৃষ্ঠের ধারালো পাথর থেকে পা জোড়াকে রক্ষা করতে রবারের চটি। সমুদ্রের কাছাকাছি বা দ্বীপগুলোর দিকে যেদিকেই যান এগুলো তারা অবশ্যই ব্যবহার করেন। সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করা এমন একটি পরম্পরাগত পেশা, যা এই অঞ্চলে মায়ের থেকে মেয়েরা শিখে নিয়ে ধারাটিকে বজায় রাখেন। আবার কোনো কোনো একা, সহায়হীন মহিলার ক্ষেত্রে এটাই আয়ের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়ায়। যাদের বয়স হয়ে গিয়েছে তারা আর আগের মতো সমুদ্রে যান না। উপকূলের কাছেই বাঁশের সাহায্যে শৈবাল সংগ্রহ করেন।

৩৮ বছর ধরে শৈবাল চাষ করা এবং তোলার কাজ করেন মুথুলক্ষ্মী নামবুরাজান। আগে শৈবাল সংগ্রহের জন্য তিনি গভীর সমুদ্রে যেতেন। বর্তমানে শৈবালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সে ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত আছেন তিনি। নামবুরাজান বলেন, ‘এখন আমি উপকূলের কাছাকাছি ভাসমান বাঁশেই বেশি সময় কাটাই।’ পানির নিচে পাথরের সঙ্গে দড়ি বাঁধা থাকে। আর সেই দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে ভাসমান বাঁশ। দড়িগুলোতে শৈবাল জমলে সেগুলো পরে সংগ্রহ করা হয়। নামবুরাজান একদিনে প্রায় ৫০ কেজি শৈবাল তোলেন, সেগুলো শুকান ও পরিষ্কার করেন।

ভারতের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সামুদ্রিক এই শৈবাল চাষের সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। বিশেষ করে নারী শৈবাল কৃষকদের মধ্যে এর চাহিদা অনেক বেশি। কারণ এই কাজ করে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তামিলনাড়–র উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১২০০ পরিবার আছে যারা শৈবাল সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকে দিনে ৪৫টি করে বাঁশ থেকে শৈবাল তোলেন। প্রায় ২০০ কেজি শৈবাল করা হয় দিনে, যার মধ্যে ৫০ কেজি আবার পরে বাঁশে লাগিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়।

সেন্ট্রাল সল্ট অ্যান্ড মেরিন কেমিক্যালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CSMCRI) যখন থেকে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে এবং উপকূলের ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শৈবাল চাষের ব্যবস্থা করেছে, তখন থেকে খুব অল্প সময়েই ভারতে এর চাষ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শৈবাল যে শুধু খাদ্যের উৎসের জন্যই নির্ধারিত এমন নয়, এগুলো বায়োফুয়েল, বায়ো-ফার্টিলাইজারসহ অন্যান্য পণ্যের জন্যও দরকারি উৎস। CSMCRI-এর সামুদ্রিক শৈবাল বায়োফুয়েল এখনো অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ইতিমধ্যেই। শৈবালের বায়ো-ফার্টিলাইজার মাঠে শস্য উৎপাদনেও বেশ কাজে আসছে। আর তাই মার্কেটেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

পরিবেশের ক্ষতি নাকি উপকার

যেহেতু সমুদ্রে চাষ হয়, নিজস্ব পরিবেশগত উত্থান-পতন কখনো না কখনো হতেই পারে। সামুদ্রিক বন্য শৈবালগুলোকে ভালো করে পরীক্ষা করে না নিলে উপকূলের প্রবালেরও ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া সামুদ্রিক প্রাণীর চিন্তা তো আছেই। প্রাকৃতিকভাবে হলে বিষয় যে রকম, চাষের জন্য নিয়ম কিছুটা ব্যতিক্রম। আর এতে প্রবালের ক্ষতির আশঙ্কাও আছে বলে সবার জন্য বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি। ঈঝগঈজও-এর একটি হিসাব মতে, শৈবাল চাষে ৭৭ স্কয়ার মিটারের ছোট্ট এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শৈবাল সংগ্রহের জন্য পাম্প ব্যবহার করা হয়, তাহলে হয়তো চাষের পর ক্ষতির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে।

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্রুত বর্ধমান বৈশ্বিক এই শৈবালের মার্কেট ইতিমধ্যে ছয় বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এই খাত থেকে। বর্তমানে ভারতে যে পরিমাণ শৈবাল আছে, তার মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। দিনে দিনে এই মূল্য আরও বাড়ছে। অ্যাকোয়াএগ্রির প্রতিষ্ঠাতা অভিরাম শেঠ বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ টন শৈবাল চাষ করা হয়েছে। তবে সে সময় বৈশ্বিক উষ্ণতা সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। যার কারণে চাষও কম হয়েছে। এ ছাড়া চাষের জন্য মানসম্পন্ন উপাদানও পাওয়া যাচ্ছিল না। বিশেষ করে বীজ। ঈশ্বর বলেন, ‘এ সমস্যা দূর করতে তাপ-প্রতিরোধী যন্ত্র এবং বীজ রাখার জন্য সিডব্যাংক বানানো হচ্ছে। যদিও এগুলো এখনো পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে।’

ঐতিহাসিক খাবারের তালিকা থেকে যদি কোনো খাবার বাদ যায় তার মধ্যে এই সামুদ্রিক শৈবাল একটি। অথচ এই খাবারটি উপকূলীয় জীবনে অন্যতম প্রভাব রেখেছে সব সময়। যে শৈবাল কার্বন সংরক্ষণ ও কৃষিজমি বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই শৈবালের অধিকার রয়েছে দেশের নাগরিকদের প্লেটে জায়গা করে নেওয়ারও। খুব দ্রুতই হয়তো এ ধারণাও সত্যি হয়ে যাবে।

যেভাবে খাওয়া যায় শৈবাল

শুধু ভারতেই যে সামুদ্রিক শৈবালের চাষ হচ্ছে এমন নয়। জাপানের সমুদ্রতীরে ছোট্ট গ্রাম ওকিনাওয়া, চীন, কোরিয়াতেও শৈবাল চাষ হয়। এশিয়ার খাবারে ইতিমধ্যেই এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও আয়োডিনে ভরপুর থাকায় শৈবাল পুষ্টিগুণেও ভরপুর। যেভাবে খাওয়া যায় শৈবাল

স্যুপ : স্যুপের জন্য বানানো নানা স্বাদের স্টকের মধ্যে একটি তৈরি হয় শৈবাল থেকে। এ স্টক সাধারণত শুকনো হয়। কোরিয়ায় এবং জাপানে শৈবালের স্টক দিয়ে বানানো স্যুপ বেশি খাওয়া হয়।

সালাদ : পালং বা লেটুসের দারুণ বিকল্প হতে পারে শৈবাল। পুরো পাতা অথবা নির্দিষ্ট একটি অংশ ভিত্তি হিসেবে দিয়ে আপেল আর লাল বাঁধাকপি কুচি দিয়ে বেশ সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া যায়। শুকনো শৈবাল পানিতে ভিজিয়ে নিলেই নরম হয়ে যায়।

স্ন্যাকস : ক্যালরি কম থাকায় আর স্বাস্থ্য উপকারিতা বেশি হওয়ায় মাংসজাতীয় খাবারের বিকল্প হতে পারে শৈবাল। শৈবালের মাফিন বা টোস্ট বানিয়েও খাওয়া যায়।

ডেজার্ট : মিষ্টি জাতীয় খাবারেও শৈবালের ব্যবহার রয়েছে। ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আইরিশ মস নামক এক ধরনের শৈবাল দিয়ে পুডিং বানানো হয়। এছাড়া হট চকলেটেও এর ব্যবহার রয়েছে। বানানো হয় শৈবালের ব্রাউনিও।

পানীয় : জাপানিরা বহু বছর ধরে কম্বু চা পান করে, যেটি বানানো হয় কম্বু পাউডার দিয়ে। আর এই পাউডার শৈবাল থেকে তৈরি। আইরিশ মস দিয়ে বানানো পানীয় ক্যারিবিয়ানদের ভীষণ প্রিয়। এছাড়া মিষ্টি দুধও বানানো হয় শৈবাল দিয়ে।