ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটি সাইবার হামলার ঝুঁকির ব্যাপকতার সঙ্গে পরিচিত হয়। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছিল এমন অভিযোগের সুরাহাতো এখনো হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সরকারি দপ্তর সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির কর্র্তৃপক্ষ শুরুর দিকে এসব হামলার ঘটনা চেপে গেলেও পরবর্তী সময়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
শুরুর দিকে সাইবার হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে। কিন্তু এমন অভিযোগের পক্ষে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ পাওয়ার পর দেশটির সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সাইবার হামলার ‘প্রচণ্ড ঝুঁকিতে’ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ)।
সিআইএসএ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলা প্রতিহত করা ব্যাপক জটিল ও চ্যালেঞ্জের কাজ হবে। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে অ্যাডভান্সড পার্সিসটেন্ট সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হ্যাকারদের ধৈর্য, নিরাপত্তা কৌশল ও বাণিজ্যের পটপরিবর্তনের বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। সিআইএসএ এসব সাইবার হামলার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কোন কোন সংস্থা হামলার শিকার হয়েছে জানায়নি। কোনো তথ্য চুরি বা ফাঁস হয়েছে কি না তাও জানায়নি।
জ্বালানি বিভাগে হামলার কথা স্বীকার করে এর মুখপাত্র সাইলিন হাইনস অবশ্য দাবি করেছেন হামলার জন্য দায়ী ম্যালওয়ারটি কেবল বিজনেস নেটওয়ার্কেই সীমিত ছিল। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র তদারকি করা ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএনএসএ) নিরাপত্তা কার্যক্রম হামলায় আক্রান্ত হয়নি।
এসব সাইবার হামলার সঙ্গে রাশিয়া জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন হিসেবে দাবি করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিভাগ ও জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কাছেও প্রমাণ রয়েছে যে, হ্যাকাররা তাদের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করেছিল।
জ্বালানি দপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগে হামলা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সাইবার সিকিউরিটিকে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেবে তার প্রশাসন। তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তার জন্য মিত্র ও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এর জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করবেন তিনি।