গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন

যানজট নিরসনে হচ্ছে ২০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যানজট নিরসন ও বায়ুদূষণ হ্রাসে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নগর ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পগুলো প্রণয়ন করা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এটি বাস্তবায়ন করা হবে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটিকে (ডিটিসিএ)। ব্যয় হবে ৪২ কোটি টাকা। এ বিষয়ে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, এর আগে সড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুসারে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠাতে হবে না। ৫০ কোটি টাকা কম বরাদ্দে প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী নিজ ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিতে পারেন।

প্রস্তাবনা অনুসারে, প্রকল্পের আওতায় গণ-ট্রানজিট নেটওয়ার্কের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হবে। নারায়ণগঞ্জ শহরের মাল্টিমোডাল হাবের ধারণামূলক নকশাসহ ব্যাপক পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুতি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ট্রাক টার্মিনালের ধারণামূলক নকশাসহ বিস্তৃত পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হবে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি পরামর্শক কাজ করবে।

এ বিষয়ে সভায় নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সওজ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রকল্পগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে নায়ায়ণগঞ্জ শহরে পরিবহন সমস্যার সৃষ্টি হবে। রেলওয়ের ডাবল লাইন প্রকল্পে চাষাড়া, ১ নম্বর ও ২ নম্বর রেলগেট অংশে কোনো ওভারপাস বা আন্ডারপাস সংস্থান রাখা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ শহরে ট্রাফিক কনজেশন বাড়বে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বাস টার্মিনাল অপসারনের জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় টার্মিনাল সরানো সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরে মাল্টিমোডাল হাব জরুরি। তা না হলে এমআরটি, রেলওয়ে এবং সড়ক বিভাগ কর্তৃক অসমন্বিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরবর্তী সময়ে এটির ইন্টিগ্রেশন করা সম্ভব হবে না। 

গাজীপুরের সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে যানজট নিরসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এর মূল কারণ চলমান বিভিন্ন প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো সমন্বয় নেই। যে যার মতো করছে। করোনার কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়েও গেছে। তিনি বলেন, এখন উচিত একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সব কাজগুলোর মধ্যে সমন্বয় আনা। এতে ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যানবাহনের চলাচলে গতি আসবে।                                                                                                              

পরিকল্পনা কমিশন সভায় জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে পরামর্শক খাতে গণ-ট্রানজিট নেটওয়ার্কের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের মাল্টিমোডাল হাবের ধারণামূলক নকশা প্রণয়নে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ট্রাক টার্মিনালের ধারণামূলক নকশাসহ বিস্তৃত পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে ১৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শকের সংখ্যা মেয়াদ, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং টার্মস অব রেফারেন্স খাতে যৌক্তিকভাবে ব্যয় হ্রাস করতে হবে।

প্রকল্পের আউটসোর্সিং পিআইইউ খাতে ৭৫ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে আলাদা করে কোনো থোক বরাদ্দ রাখা যাবে না। এজন্য যৌক্তিক ব্যয়সহ নির্ধারিত ছকে হায়ারিং চার্জসহ অন্য খাতগুলো উল্লেখ করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় ৩টি মোটরসাইকেল বাবদ ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং রাজস্ব খাতে ১টি মাইক্রোবাস বাবদ ৩০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, অর্থ বিভাগের জারিকৃত নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি যানবাহনের যথাযথ স্পেসিফিকেশনস উল্লেখপূর্বক যানবাহনের সঠিকমূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এমন সময়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যখন দুই সিটিতেই জোরেশোরে বড় বড় প্রকল্প চলছে। এটি করা উচিত ছিল এসব প্রকল্প প্রণয়নের পর্বে। এখন এই পরিকল্পনার আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা কতটুকু কার্যকর হবে তা বলা যাচ্ছে না।