শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলা

আরও ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নতুন করে ও বাকি চারজন দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সাতক্ষীরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে এসব সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ড করা হয়। সাক্ষীরা হলেন, কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী মজনু, মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন ও সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো।

এদিন সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুধীন চ্যাটার্জী, এএজি শাহীন মৃধা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং সাতক্ষীরার পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাতক্ষীরার অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ ও শহীদুল ইসলাম পিন্টুসহ অন্যরা।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনির বলেন, ‘২০০২ সালের ৩০ আগস্ট কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন বিএনপিদলীয় এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সাক্ষ্যপ্রমাণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার হলে আসামিরা আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবেন। ১৮ বছর পর এই মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ সোমবার আরও কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হতে পারে।’

অপরদিকে আসামিদের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য খন্ডন করে বলেন, ‘মামলার বিবরণে যা বলা হয়েছে সেদিন এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিরোধীদলীয় নেত্রী কলারোয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং পরে কয়েকজন সাংবাদিকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মামলায় এখনকার কয়েকজন সাক্ষী আগেই জানিয়েছিলেন এ ঘটনা ঘটেনি। এখন তারা উল্টো কথা বলছেন।’

এ নিয়ে কেন তারা জিডি করেননি এই প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ সালে কেয়ারটেকার সরকার আমলে মামলার বাদী মামলা নিয়ে শুনানি করেননি। ২০১৪ সালে এসে খারিজ হওয়া এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করে ২০২০ সালে মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরায় ছিলেন না বলে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রমাণ পাওয়া গেছে।’