২১ ডিসেম্বর, বছর ঘুরে এবারও পৃথিবীর বুকে নামে দীর্ঘতম রাত। পৃথিবীর বার্ষিক গতির এক পর্বে, সূর্যের দক্ষিণ অয়নান্তের এই ক্ষণে গত রাতে ঘটে গেল আরেক মহাজাগতিক ঘটনা। খুব কাছাকাছি এলো সৌর জগতের দুই বড় গ্রহ বৃহস্পতি ও শনি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায়, এই মহাজাগতিক ঘটনাকে বলা হয় ‘গ্রেট কনজাংশন’। এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না সৌরজগতে। প্রায় ৪০০ বছর পর গতকাল সন্ধ্যায় একেবারে কাছাকাছি আসে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, গতকাল সন্ধ্যায় দুই বৃহদাকার গ্রহ অবস্থান করে শূন্য দশমিক এক ডিগ্রি কৌণিক দূরত্বে। স্বাভাবিকভাবে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যে দূরত্ব ৭৬ কোটি কিলোমিটার হলেও কয়েক শ বছর ধরে তা প্রায় ৩ কোটি কিলোমিটার কমে ৭৩ কোটি মিলোমিটারে দাঁড়ায়। অবশ্য গতকাল থেকেই ফের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে দুই গ্রহের।
পাশাপাশি থাকলেও সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় দুটি গ্রহের এত কাছাকাছি আসা দুর্লভ ঘটনা। ২১ ডিসেম্বর বছরের সব থেকে ছোট দিন, দীর্ঘতম রাত। বিশেষ এই দিনেই বিরল ঘটনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ।
কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সাধারণত শনি ও বৃহস্পতি দুটি গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অত্যন্ত বেশি। গ্রহ দুটি ২১ ডিসেম্বর সূর্যাস্তের পরপর দেখতে হলে দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে তাকাতে হবে। বৃহস্পতিবার ওপরের দিকে ডানপাশে থাকবে আকারে দেখতে ছোট শনি গ্রহ। গতকাল সূর্যাস্তের পর পৃথিবী থেকে দুটি গ্রহকেই দেখা যায় একই আকারের। বাংলাদেশ সময় ৬টার দিকে তা দেখা যায় খালি চোখেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের অঙ্ক বলছে, বৃহস্পতি তার প্রতিবেশীর কাছাকাছি আসে ১৯ বছর ৭ মাস পর। ২০৪০ সালে আবার তারা একে অপরের কাছাকাছি আসবে। তবে এতটা কাছাকাছি শেষবার এসেছিল ১৬২৩ সালে, গ্যালিলিওর টেলিস্কোপ আবিষ্কারের ১৩ বছর পর।