দেশের অর্ধেকের বেশি অংশজুড়ে শুরু হওয়া মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার অনেকটাই কমে এসেছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছু বেড়ে গিয়ে কমেছে শীতের তীব্রতা। বেশ কিছু এলাকা থেকে ইতিমধ্যে শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেছে। গতকাল সোমবার দেশের অন্তত ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। তবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনো ৮ ডিগ্রির নিচে। ফলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া জেলাগুলোর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমেনি। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে, তারা পড়েছেন বেশি বিপাকে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আরও কয়েকদিন তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং সপ্তাহখানেক পর আবারও বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গতরাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী দুদিন (আজ ও কাল) তাপমাত্রা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা। এরপর কয়েকদিন অপরিবর্তিত থাকার পর আগামী ২৭-২৮ তারিখ থেকে ফের তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তখন শৈত্যপ্রবাহ আবার বিস্তার লাভ করবে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।’ রাজধানীতে শীতের মাত্রা তেমন বাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় রাতের তাপমাত্রা আগামী কয়েকদিন আরও বাড়বে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
গত শুক্রবার রংপুর বিভাগের তিন জেলায় মৃদু মাত্রায় শুরু হয় মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ। পরের দিন শনিবার তা চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া বাকি বিভাগগুলোর অন্তত ৩৭টি জেলায় বিস্তার লাভ করে। পাশাপাশি অনেক জেলায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা মৃদু থেকে বেড়ে মাঝারি মাত্রায় পৌঁছে। ওইদিন কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং বেশ কিছু এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ দূরীভূত হয়। গতকাল সোমবার তাপমাত্রা আরেকটু বৃদ্ধি পায় এবং শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার কমে প্রায় ১০টি জেলায় সীমাবদ্ধ হয়। পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতাও আরও কমেছে। এদিন শুধুমাত্র পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ ছিল। অর্থাৎ তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রির নিচে। বাকি এলাকায় মৃদু মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ ছিল। অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ আরও কিছু এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে পারে। গোপালগঞ্জ, সীতাকু-, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল, বদলগাছী, তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু স্থান থেকে দূরীভূত হতে পারে।
গতকাল শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। তারপরেই দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিনে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন রাজধানীতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় কমেছে শীতের তীব্রতা। আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া কেন্দ্রে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। যে সব এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেসব এলাকার কোনো কোনোটি থেকে শৈত্যপ্রবাহ দূরীভূত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গতকাল তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, শ্রীমঙ্গলে সোমবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়েই মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। জানুয়ারিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
এ দিকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। বিশেষ করে চা শ্রমিকরা তীব্র শীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেলায় বেড়েছে ঠা-াজনিত অসুখ।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এম এম হক জানান, ঠান্ডায় শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ বিশেষ করে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং ডায়রিয়া বেড়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।