বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলায় ৩ জন রিমান্ডে

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিনা খাতুন রিমান্ড শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এ মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করে কুমারখালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো কয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কয়া ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মহিরুদ্দিন সেখের ছেলে আনিসুর রহমান আনিছ (৩৫), নাসির উদ্দিনের ছেলে সবুজ হোসেন (২০) ও বুদ্দিন মন্ডলের ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)।

কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের (বাঘা যতীন) ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় কুমারখালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে কয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত গতকাল রিমান্ড শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

১৮ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া মহাবিদ্যালয় চত্বরে বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

বাঘা যতীন ছিলেন বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী নেতা। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার কয়া গ্রামে নানির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত হয় এখানেই। পরে শিক্ষার্জনে ভারতে গমন করেন এবং ভারতের ওডিশায় ১৯১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছিলেন। তিনি বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা ছিলেন। ভারত স্বাধীনতা আন্দোলন, হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র, বড়দিন ষড়যন্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি সমাজ সংস্কারক হিসেবে নানা খাতে অবদান রাখেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যায়ামাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন কুষ্টিয়ায়।

ঐতিহাসিকভাবে বাঘা যতীন বৈপ্লবিক অবদানের কারণে কুষ্টিয়ার ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হন। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে লালিত একটি নাম হলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার কোনো স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে কয়া ডিগ্রি কলেজ চত্বরে এই আবক্ষমূর্তিটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানান কলেজ প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু।