সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি থেকে পাথর তোলার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগ।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া টানা ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটে বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লেগুনাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার গন্তব্যে কোন বাস সিলেট থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি।
অন্যদিকে, সিলেটগামী যানবাহনকেও বিভিন্ন জায়গায় আটকে দিচ্ছে ধর্মঘট আহ্বানকারী সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কেউ রাস্তায় বের হলে তাকেও নাজেহাল করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন টার্মিনালে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েন। নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধরা দিনভর অসহায়ের মতো অপেক্ষা করেছেন গন্তব্যে যাওয়ার পরিবহনের জন্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের কোন সম্ভাবনা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সঙ্গে গত সোমবার সভা করেছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবির কারণে সভা ফলপ্রসূ হয়নি। তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, বিছানাকান্দি, লোভ ছড়াসহ বিভিন্ন পাথর কোয়ারিতে দীর্ঘদিন এক্সেবেটর, বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক অঙ্গন থেকেও যন্ত্র দিয়ে পাথর তোলা বন্ধের দাবি ওঠে। বিষয়টি আদালতের নজরেও আনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। এর প্রেক্ষিতে আদালত বিভিন্ন কোয়ারি থেকে যন্ত্র দিয়ে পাথর তোলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এর আলোকে জেলা প্রশাসন সিলেটের সকল কোয়ারি থেকে পাথর তোলা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে পাথর উত্তোলন, পাথর ভাঙা, পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের হাজার হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
গত বেশ কিছুদিন ধরে এ খাতের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তোলার দাবিতে মাঠে নামেন। তারা মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করে কোয়ারি খোলার দাবি জানান। এখন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে। সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্মঘট পালনের পক্ষে পিকেটিং শুরু করে।
এই অবস্থায় ভুক্তভোগী লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, মানুষকে জিম্মি করে পাথর তোলার দাবি আদায়ের কোন নৈতিক অধিকার নেই। পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা স্বেচ্ছাচার ও বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন।
কদমতলি বাস টার্মিনালে সপরিবারে আটকা পড়া ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, তার বাড়ি হবিগঞ্জে। সিলেটে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েছেন। তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানান।
সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যার বৈঠকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আমাদের ন্যায্য দাবি মানেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘট পালন করছি।