ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স অফিসারকে এমডি করতে চায় ডিএসই

স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে কাজে অভিজ্ঞকে বাদ দিয়ে একটি ব্যাংকের চিফ কান্ট্রি কমপ্লায়েন্স অফিসারকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দিতে চায় স্টক এক্সচেঞ্জটির পর্ষদ। পুঁজিবাজারে বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকলেও সিটি ব্যাংক এনএর চিফ কান্ট্রি কমপ্লায়েন্স (সিসিসিও) ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অফিসার এম আশিক রহমানকে এমডি পদে নিয়োগ দিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ডিএসইর পর্ষদ। আজ ডিএসইর পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে ডিএসইর নতুন এমডি নিয়োগে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখছেন পর্ষদের একজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, যিনি বর্তমান এমডি কাজী সানাউল হকের নিয়োগেও প্রধান ভূমিকা রাখেন। সম্প্রতি ওই শেয়ারধারী পরিচালক আইনে সুযোগ না থাকলেও বেস্ট হোল্ডিংসের মতো বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। 

অবশ্য নিয়োগের আট মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন ডিএসইর বর্তমান এমডি কাজী সানাউল হক, যা ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এমন পরিস্থিতিতে এমডি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএসই। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিএসইর এনআরসি কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুজনকে রাখা হয়। এর মধ্যে একজন এম আশিক রহমান ও অন্যজন বর্তমানে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. মোহাম্মদ এনামুল সরকার। তবে ইন্টারভিউ শেষে এম আশিক রহমানকে ডিএসইর এমডি পদের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছে ডিএসইর এনআরসি কমিটি, যেখানে তিনজন শেয়ারধারী পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। এক্ষেত্রে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মনোনীত পরিচালকের সুপারিশও আমলে নেননি তারা।  এদিকে এমডি পদের জন্য দুই আবেদনকারীর কাউকেই ডিএসইর জন্য যোগ্য বলে মনে করছেন না ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক। চীনা পরিচালক এক জুম মিটিংয়ে বলেন, তাদের কারোরই বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে অভিজ্ঞতা নেই। বরং ডিএসইর অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমডি ও সিআরও পদের জন্য বেছে নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। 

ডিএসইতে এর আগের এমডি ছিলেন কে এ এম মাজেদুর রহমান, যিনি ডিএসইতে যোগদানের আগে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি হিসেবে কাজ করেছেন। তার আগে ডিএসইর এমডি পদে ছিলেন অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা, যিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ হিসেবে এমডি পদের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত  এম আশিক রহমান অনেকটাই পিছিয়ে। অপর দিকে ড. মোহাম্মদ এনামুল হকের পুঁজিবাজার নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে কাজ করছেন। বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এনামুল হক বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করেছেন। এনামুল হক লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড প্ল্যানিং, ম্যানেজমেন্ট অপারেশন, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে লন্ডনে ন্যাশনাল ব্যাংক অব কুয়েতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (আইডিবি) হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর এক্সচেঞ্জটির এমডি পদের জন্য ২১ জন প্রার্থী আবেদন করেন।