রহস্য উন্মোচনের দাবি সিআইডির

চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে ইউপি সদস্যকে খুন

গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফকে ফাঁসাতে একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হামিদুল শরীফকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে প্রধান আসামি রবিউল শরীফসহ (৫৭) তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গত ১২ ডিসেম্বর হামিদুল শরীফ খুন হন। গোপীনাথপুর হাই স্কুলের কাছে দুর্বৃত্তরা গুলি করে তাকে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মনির শরীফ অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ক্লুলেস মামলাটির পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরে ওই মোটরসাইকেলের (গোপালগঞ্জ ল-১১-১৪৮১) সূত্র ধরে একটি পেট্রলপাম্প ও রূপসা সেতুর টোল প্লাজার সিসি ক্যামেরা ফুটেজের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে যশোরে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলের মালিক আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রবিউল শরীফকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত এসপি মুক্তা ধর বলেন, ‘রবিউল ও আমির দুজনেই যশোরে থাকেন। তাদের মধ্যে রবিউলের বাড়ি নিহত মেম্বারের গ্রামে। পাশের গ্রামে বাড়ি আমিরের। একটি অপহরণ মামলার আসামি করায় স্থানীয় চেয়ারম্যান লাচ্চুর ওপর ক্ষোভ ছিল আমিরের। কয়েক মেম্বার মিলে অনাস্থা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় হামিদুলের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে হামিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমির। যশোরের এক সন্ত্রাসী থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেন তিনি। ঘটনার দিন ভ্যান থামিয়ে হামিদুলের বুকের বাম পাশে ৪টি গুলি করে আমির। রবিউলের এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত হওয়ার কারণ হলো, হামিদুল মারা গেলে তিনি পরবর্তী সময়ে মেম্বার হতে পারবেন। হত্যার পর মোটর সাইকেলযোগে রবিউল ও আমির আবার যশোর চলে যান। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফ বলেন, ‘আমির মোল্লাকে আমি চিনি না। সুতরাং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে রবিউলকে চিনি, সে নিহত হামিদুলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা।’ হামিদুলসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য মিলে অনাস্থা আনছে বলে যে কথা সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন তাও অস্বীকার করেন লাচ্চু শরীফ।