করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেট ছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের সাত দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বুধবার রাজধানীর আশকোনা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জিন এক্সপার্ট টেস্ট এবং ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের নতুন পরিস্থিতির জন্য দেশে লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। নতুন ভেরিয়েন্টের নতুন ধরনের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে কি না সে নিয়ে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছে। নতুন চিকিৎসা থাকলে সেটাও আমরা গ্রহণ করব।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এ নতুন ধরনটি সম্পর্কে আমরা জেনেছি। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যারা ইউকে থেকে আসবে তাদের সাত দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। সাত দিন কোয়ারেন্টাইন শেষে যুক্তরাজ্যফেরত যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরে তারা বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন করবেন।’ বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশনে আলাদা লাইন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে এ সময় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বর্তমানে করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেট ছাড়া দেশে এলে বাধ্যতামূলক ৭২ ঘণ্টার কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বসে নেই। ফ্লাইট বাতিল করা হবে কি না তা আলোচনায় আছে। আমরা অতি তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ আলোচনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কভিড চিকিৎসায় প্রথমেই টেস্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর দিকে দেশে মাত্র একটি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি ছিল। সেখান থেকে বর্তমানে ১১০টির বেশি ল্যাব রয়েছে। পাশাপাশি আরও আধুনিক টেস্টের জন্য অ্যান্টিজেন এবং জিন এক্সপার্টের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে কয়েকটি জেলায়। অ্যান্টিজেন টেস্ট সব জেলাতেই করা হবে।’
পরীক্ষা পদ্ধতির তালিকাতে আরেকটি সংযোজন হলো জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভ্রাম্যমাণ আরটি-পিসিআর মোবাইল ল্যাব উদ্বোধন করা হলো। আপাতত হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে থাকা যাত্রীদের জন্যই এ ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কাজ করবে। তবে যেখানে ল্যাব নেই সেখানেও এটি নিয়ে যাওয়া যাবে এবং দ্রুত পরীক্ষা সম্ভব হবে।’
আশকোনা হজ ক্যাম্পে স্থাপন করা জিন এক্সপার্ট ল্যাবে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কভিড-১৯ আছে কি না তা জানতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সব হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ছিল না। বর্তমানে ৭৮টি নতুন সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, আশকোনা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুর রহমান, ডিএমএফআরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘আজকে যেসব পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্বোধন হলো তা দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে পারব। এটা করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সাহায্য করবে। ই-ল্যাব পরিচালনা করবে ডিএমএফআর মলিক্যুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক।’