রবির শেয়ারে ব্যাপক আগ্রহ

লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি অজিয়াটার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল লেনদেন শুরুর পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে রবির প্রায় ২৫ কোটি শেয়ার কেনার আদেশ ছিল। প্রথম দিনে ৫০ শতাংশ দরবৃদ্ধির পরও প্রাইমারি শেয়ারধারীরা শেয়ার বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাননি। যদিও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কম হওয়ার কারণে অভিহিত মূল্যে আসা অন্য কোম্পানির মতো রবির শেয়ারের দরবৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ ছিল।

২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন তালিকাভুক্ত হওয়ার ১১ বছর পর এ খাতের দ্বিতীয় কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলো। তালিকাভুক্তির আগে রবি আইপিও প্রক্রিয়ায় অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ৫২ কোটি ৩৭ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করে ৫২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছে। এটি ছিল দেশের পুঁজিবাজারের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ আইপিও।

তালিকাভুক্তির প্রথম দিনে রবির শেয়ার ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। নিয়মানুযায়ী, এদিন আইপিও ইস্যু মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেশি বা ১৫ টাকা দরে শেয়ারটি কেনাবেচার সুযোগ ছিল। ওই দরেই ডিএসইতে ১৮ কোটিসহ দুই পুঁজিবাজারে ২৫ কোটির বেশি শেয়ারের চাহিদা ছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩০ লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে সিএসইতে ২৯ লাখ ৭২ হাজার এবং ডিএসইতে কেনাবেচা হয় মাত্র ১ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার।

শেয়ারপ্রতি নিট মুনাফার পরিমাণ কম হওয়ার কারণে রবির শেয়ারদর প্রথম দিনে ১৫ টাকায় কেনাবেচা হবে কি না, তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। ব্যাপক চাহিদা দেখে আইপিও শেয়ার ক্রয়কারীদের কেউ এ দরে তাদের শেয়ার বিক্রিতে রাজি ছিলেন না। রবি আইপিও প্রক্রিয়ায় ৫২ কোটি ৩৭ লাখ শেয়ার বিক্রি করলেও গতকাল ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য ছিল।

আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরুর আগে গতকাল সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির চুক্তি করে রবি। ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ডিএসইর পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন চিফ রেগুলেটরি অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল লতিফ এবং রবির পক্ষে চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার ও কোম্পানি সচিব শাহেদ আলম। চট্টগ্রামে সিএসই কার্যালয়েও চুক্তি হয়।

তালিকাভুক্তি চুক্তির পর ঘণ্টা বাজিয়ে সকাল ১০টায় রবির শেয়ার লেনদেনের উদ্বোধন করেন কোম্পানিটির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কে দোরাইস্বামী এবং মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মিস হাজনাহ্ মো. হাশিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হকসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ্ মো. হাশিম বলেন, রবি অজিয়াটা তালিকাভুক্তি একটি বড় পদক্ষেপ। এটি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। ভারতীয় হাইকমিশনার দোরাইস্বামী বলেন, প্রতিবেশী, অংশীদার এবং সাধারণ মানুষ পর্যায়ে সম্পর্কের সবচেয়ে মাধ্যম হচ্ছে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং জনগণের অংশীদারত্ব।

এদিকে লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে রবির উল্লেখযোগ্য শেয়ার কেনাবেচা না হলেও দুই পুঁজিবাজারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকার এবং সিএসইতে ৭৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত ১৭ আগস্টের পর এই লেনদেন সর্বোচ্চ। অবশ্য এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্র“পের বেক্সিমকো লিমিটেড এবং বেক্সিমকো ফার্মারই পৌনে চার শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন রয়েছে, যা মোট লেনদেনের সাড়ে ২৫ শতাংশেরও বেশি। গত চার মাসের সর্বোচ্চ লেনদেনের দিনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।