ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়াই চলছে তদন্ত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় নির্ধারিত ৭৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন ছাড়াই তদন্তকাজ অব্যাহত রাখায় যথাযথভাবে আইন অনুসরণ হচ্ছে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে দেওয়া জামিনের রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ ও আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার ব্যাখ্যা শোনার পর গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে কাজলকে জামিন দেয়। পরে রাজধানীর হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় করা দুই মামলায় গত ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। মামলায় নথি পর্যালোচনা ও তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেখে এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তাকে কেস ডকেট (মামলার নথি) নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। ওইদিন আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বলেছিলেন, এ আইনের মামলার তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে তারা নির্দেশনা দেবেন।

হাইকোর্ট বলে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৭৫ দিন (৬০ ও আরও ১৫ দিন) অতিক্রান্ত হলে পরবর্তী তদন্ত অব্যাহত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু বর্তমান মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় লক্ষ করা যাচ্ছে যে, আইনের এ নিয়ম অনুসরণ না করে আইনের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল হতে কোনো অনুমোদন না নিয়ে মামলার তদন্তকাজ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হলো।’

নরসিংদী যুব মহিলা লীগের নেত্রী (পরে বহিষ্কৃত ও কারাদণ্ডপ্রাপ্ত) শামীমা নূর পাপিয়ার হোটেল ওয়েস্টিনকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য। এছাড়া গত ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় কাজলের বিরুদ্ধে একই আইনে আরও দুটি মামলা হয়। প্রায় দুই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর গত ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে গ্রেপ্তার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। বিচারিক আদালতে কাজলের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।