সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র শশাঙ্ক রিডেম্পশন

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে শশাঙ্ক রিডেম্পশন মুক্তি পেল হলিউডপাড়ায়। কিন্তু সেভাবে আলোচনায় আসেনি। তার দুই দশক পর আইএমডিবির সর্বোচ্চ রেটিংয়ে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের তকমা পায় ‘শশাঙ্ক রিডেম্পশন’। বিবিসি রেডিওর জরিপেও সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়। কালজয়ী চলচ্চিত্র শশাঙ্ক রিডেম্পশন নিয়ে লিখেছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

অনুপ্রেরণা

২০১২ সালের এপ্রিল মাস। চীনের শেংডনে নিজের বাড়ি আর গ্রামে ১০০ পুলিশের মধ্যে বন্দি চেন গুয়াংচেং। চীন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় ছয় বছরের জন্য এমন শাস্তি তার। মুক্তিকামী চেন অপেক্ষা করলেন একটা অন্ধকার রাতের জন্য। এপ্রিলের অমাবস্যায় নিজের বাড়ির চারপাশের দেয়াল ভেদ করে পায়ের হাড় ভেঙে হামাগুড়ি দিয়ে পার করলেন নদী আর রাস্তা। ৩০০ মাইল পর পৌঁছালেন নিজের গন্তব্য বেইজিংয়ে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাসে। পরে মীমাংসা হলো দুদেশের। মুক্তি পেলেন চেন গুয়াংচেং। তবে চীন সরকার দেশে আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য হলো। অন্ধ চেন গুয়াংচেংয়ের কারণেই ১১১ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ‘চায়না রাইট অ্যাকটিভিস্ট’ আইন পাস করা হলো। নিষিদ্ধ করা হলো টুইটার। সেই সঙ্গে দেশটির ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হলো তিনটি শব্দ। দুটি চেন গুয়াংচেং নিয়ে। ‘অন্ধ’ ও ‘দূতাবাস’। বাকিটা একটা চলচ্চিত্রের নাম, ‘শশাঙ্ক’।

চেন গুয়াংচেং তার মুক্তির জন্য যে চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন, সেই চলচ্চিত্র অবশ্য শুরুতে মোটেই জনপ্রিয় ছিল না। প্রযোজক লিজ গ্লটজার আর পরিচালক ফ্রাঙ্ক ডারাবন্ট দুজনে যখন হলে চলচ্চিত্র দেখেছিলেন, তখন পুরো হলই ছিল খালি। কিংবদন্তিঅভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যানের মতে, ‘লোকে আমাদের চলচ্চিত্রের নামই বলতে পারত না। শাঙ্ক, শঙ্ক, শাম অনেক কিছুই শুনতে হতো। শশাঙ্ক রিডেম্পশন কখনোই চলচ্চিত্রের নাম হিসেবে উপযুক্ত না।’ কিন্তু দুই দশক পর আইএমডিবি রেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৯.৩ রেটিং নিয়ে তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের নাম ‘শশাঙ্ক রিডেম্পশন’। বিবিসি রেডিওর জরিপেও সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের তকমা গিয়েছে তাদের কাছে। ভুল বিচারে সাজা পাওয়া এক ব্যাংকারের জেল পালানোর ওপর ভিত্তি করে বানানো ১৪২ মিনিটের এই চলচ্চিত্র আজও মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়।

উপন্যাস বনাম স্ক্রিপ্ট

শশাঙ্ক রিডেম্পশন এমন একসময়ে তৈরি করা হয়েছিল যখন মার্কিন জনগণ বুঁদ ছিল অ্যাকশন চলচ্চিত্র নিয়ে। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার আর ব্রুস উইলিস দুর্দান্ত দাপটে হলিউড মাতিয়ে চলেছেন। নব্বইয়ের দশক পুরোটাই ছিল অ্যাকশন চলচ্চিত্রের। ঠিক সে সময়েই নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে হাত দেন ফ্রাঙ্ক ডারাবন্ট। তিনি ছিলেন হরর উপন্যাসের রাজা স্টিফেন কিংয়ের বিশাল ভক্ত। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘দ্য ওম্যান ইন দ্য রুম’ উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ দিয়েছিলেন। তবে স্টিফেন কিং একটু অন্য ধাঁচের মানুষ। তার উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘দ্য শাইনিং’ চলচ্চিত্রের একেবারেই প্রকাশ্য সমালোচনা করতে একবারও ভাবেননি। ডারাবন্ট তাই কিছুটা সময় নিলেন। ডারাবন্টের সবচেয়ে পছন্দের ছিল ‘রিটা হেয়ওয়ার্থ অ্যান্ড শশাঙ্ক রিডেম্পশন।’ ডারাবন্ট বসলেন নিজের মতো করে। আট সপ্তাহ ধরে উপন্যাস অবলম্বনে লিখলেন স্ক্রিপ্ট। কিংবদন্তি পরিচালক আলফ্রেড হিচকক একবার বলেছিলেন, ‘ভালো চলচ্চিত্র তৈরি করতে তিনটি জিনিসের দরকার। স্ক্রিপ্ট, স্ক্রিপ্ট এবং স্ক্রিপ্ট।’ ডারাবন্ট সেই কাজটি সফলভাবেই করেছিলেন। দুই মাস পর হাজির হলেন স্টিফেন কিংয়ের কাছে। ‘দ্য ওম্যান ইন দ্য রুম’ বেশ মনে ধরেছিল কিংয়ের। আর এবারের স্ক্রিপ্ট দেখে তিনি প্রশ্ন করলেন এই স্ক্রিপ্টে কি আসলেই চলচ্চিত্র সম্ভব?

ডারাবন্টের স্ক্রিপ্টে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছিল। উপন্যাসে বৃদ্ধ ব্রুকস অন্য এক বৃদ্ধের বাড়িতে মারা যায়। তবে ডারাবন্টের স্ক্রিপ্টে সে ছিল হতাশাগ্রস্ত এক ব্যক্তি, বন্দিজীবনের বাইরে যার কিছুই করার ছিল না। চলচ্চিত্রে মৃত্যু হয়েছিল আত্মহত্যার মাধ্যমে। উপন্যাস ও চলচ্চিত্র দুই জায়গাতেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র টমি। টমিই পারত উপন্যাসের মূল চরিত্র অ্যান্ডিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে।

চলচ্চিত্রে মারা যায় ওয়ার্ডেন নর্টনের কারসাজিতে। কিন্তু উপন্যাসে কয়েদি থেকে একজন নিরাপত্তা প্রহরীতে পদোন্নতি পেয়ে নিজের কণ্ঠ দমিয়ে রেখেছিল সে। আর শেষ দৃশ্যে চলচ্চিত্রে ওয়ার্ডেন নর্টন আত্মহত্যা করে। কিন্তু উপন্যাসে ঘুষের বিনিময়ে নিজের অপরাধ চাপা দিয়েছিল সে। তবে এসবের বাইরে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি ডারাবন্ট। সব মিলিয়ে স্ক্রিপ্ট ছিল অনবদ্য। স্টিফেন কিংকে মুগ্ধ করেই চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন তিনি। তার স্ক্রিপ্ট এতটাই সাড়া ফেলেছিল, একপর্যায়ে আরেক কিংবদন্তি পরিচালক রব রেইনার সেই স্ক্রিপ্ট কিনে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। আর সেজন্য ফ্রাঙ্ক ডারাবন্টকে তিন মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ডারাবন্ট সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে মনোনিবেশ করেন পরের কাজে, অভিনেতা বাছাই।

মর্গান ফ্রিম্যান ও টিম রবিন্স

স্ক্রিপ্ট জমা দেওয়া হলো প্রোডাকশন কোম্পানি ক্যাসেল রক এন্টারটেইনমেন্টে। সেখানকার পরিচালক লিজ গ্লটজার দেখলেন স্ক্রিপ্ট। ডারাবন্ট পাস মার্ক পেলেন সেখান থেকেও। এবার অভিনেতা বাছাই করার পালা। উপন্যাস অনুযায়ী মূল চরিত্র দুজন। অ্যান্ডি ও রেড। রেডের ভাষাতেই অ্যান্ডির পুরো সময়কাল বর্ণনা করা হবে। উপন্যাস অনুযায়ী রেড একজন শ্বেতাঙ্গ আইরিশ। ডারাবন্ট শুরুতেই চাইলেন সময়ের সেরা দুই তারকাকে। তবে জিনি হেকম্যান আর রবার্ট ড্যুভাল দুজনেই ডারাবন্টের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি অ্যান্ডি ডুফ্রেইন চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তাব গিয়েছিল টম হ্যাঙ্কসের কাছেও। কিন্তু টম হ্যাঙ্কস সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ফরেস্ট গাম্প চলচ্চিত্রের জন্য। পরে ফরেস্ট গাম্পও দারুণ ব্যবসা সফল হয়। ঠাঁই করে নেয় সর্বকালের সেরার তালিকায়। ডারাবন্ট যখন কিছুটা ব্যর্থ, তখনই এগিয়ে এলেন লিজ গ্লটজার। আইরিশ, শ্বেতাঙ্গÑ এসব বর্ণ গোত্র ঝেড়ে ফেলে তিনিই প্রস্তাব দেন কিংবদন্তি অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যানকে। নিঃসন্দেহে এটা ছিল সফল এক সিদ্ধান্ত। মর্গান ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত অভিনয়, অসাধারণ বাচনভঙ্গি সব মিলিয়ে রেড চরিত্রের জন্য যা কিছু দরকার ছিল সবই ছিল তার মধ্যে।

সত্তরের দশক থেকেই হলিউডপাড়ায় চেনা মুখ ছিলেন মর্গান ফ্রিম্যান। তার ভাষায়, ‘আমার কাছে যখন স্ক্রিপ্ট আসে, তখন আমার এজেন্টকে বললাম, এটা দারুণ স্ক্রিপ্ট। যেকোনো চরিত্রেই হোক, আমি এখানে থাকতে চাই। আমার এজেন্ট জানাল, ওরা তোমাকে রেড চরিত্রে চায়। আমি ভাবলাম, বাহ! আমিই তবে চলচ্চিত্রের নিয়ন্ত্রণ করব। আমি একদম স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম তখন।’

অ্যান্ডি চরিত্রের জন্য টম হ্যাঙ্কস ছাড়াও প্রস্তাব গিয়েছিল নবীন অভিনেতা টম ক্রুজের কাছে। টম ক্রুজ অনেকটাই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ সময়ে তিনি রব রেইনারকে জানান, রব থাকলে কাজে আগ্রহী তিনি। আর রব রেইনার জানান, এটা শুধুই ডারাবন্টের কাজ। পিছিয়ে যান টম ক্রুজ। পরে অ্যান্ডি চরিত্রের জন্য টিম রবিন্সের নাম প্রস্তাব করেন মর্গান ফ্রিম্যান নিজেই। ডারাবন্ট পরে বলেছিলেন, ‘মর্গান যদি আমায় বলত সে টিম রবিন্সকে চায়, তাহলে আমি শুধু তার মুখের কথাতেই রাজি হয়ে যেতাম।’

অবশেষে বহু জলঘোলা করে পাওয়া গেল কাক্সিক্ষত জুটিকে। রেড চরিত্রের জন্য মর্গান ফ্রিম্যান। আর মূল চরিত্র অ্যানফি ডুফ্রেইন হিসেবে টিম রবিন্স। তবে আরও একটি বড় মুখ ডারাবন্টকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ব্র্যাড পিট। টমি চরিত্রে ব্র্যাড পিটকেই নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’ চরিত্রে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় আচমকাই নিজেকে সরিয়ে নেন ব্র্যাড পিট। টমি চরিত্রে আসেন কানাডিয়ান জিল বেলোস। ওয়ার্ডেন চরিত্রে বব গানটন আর ক্যাপ্টেন হ্যাডলি চরিত্রে নির্বাচিত হন ক্ল্যান্সি ব্রাউন।

শ্যুটিং

শশাঙ্ক রিডেম্পশন নির্মাণের প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর পর ডারাবন্টের সামনে এলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার দরকার কারাগার। যেখানে নির্বিঘ্নে পুরো শ্যুটিং করা যাবে। কিন্তু কারাগার পাওয়া অতটা সহজ কাজ ছিল না। তবে যখন পাওয়া গেল, সেটা একেবারেই স্ক্রিপ্টের সঙ্গেই মিলে গিয়েছিল। ১৯৯০ সালেই নিম্নমানের পরিবেশ আর অব্যবস্থাপনার অজুহাতে বন্ধ হয়েছিল ওহাইও রাজ্যের কেন্দ্রীয় কারাগার। আর তার ঠিক পাশেই ছিল এক নির্মাণাধীন ভবন। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী দুটিই খুব দরকার ছিল ডারাবন্টের জন্য। পুরো দল নিয়ে পরের তিন মাস প্রচণ্ড গরমে চলল শ্যুটিং। সপ্তাহে ছয় দিন আর প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চলত শ্যুটিং। ডারাবন্টের মতে, সপ্তাহে যে এক দিন ছুটি মিলত, তার জন্যই ব্যাপক কৃতজ্ঞ। বর্তমানে এই জায়গা পর্যটন কেন্দ্র হলেও ১৯৯৩ সালে এর অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ ছিল। অব্যবস্থাপনার অজুহাতে যে কারাগার বন্ধ হয়েছিল, সেটি চলচ্চিত্র দেখতে গিয়ে যে কেউই উপলব্ধি করবেন। ডারাবন্টের মতে, জায়গাটা একেবারেই জনশূন্য আর হিমশীতল। প্রধান অভিনেতা টিম রবিন্স পরে বলেছিলেন, ওখানে গেলেই যন্ত্রণা অনুভব করতে পারতাম। হাজারো মানুষের রেখে যাওয়া যন্ত্রণা। চলচ্চিত্রে রং চড়াতে সেই কারাগারে বেশ কিছু পুরনো কারারক্ষী ফিরিয়ে আনা হয়। যারা কয়েদিদের কাজের নির্দেশনা আর সেল ব্লকে আটকে রাখা বিষয়ে নির্দেশনার কাজ করেছিল। কিছু ক্ষেত্রে তাদের পর্দায়ও দেখা গিয়েছিল।

তবে এমন জায়গায় গিয়েও টিম রবিন্সসহ অভিনেতাদের সবাই বেশ উজ্জীবিত ছিলেন। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে টিম রবিন্স বলছিলেন, আমাদের ভেতর অ্যান্ডি ডুফ্রেইনের সত্তা ছিল। কিন্তু সেটে যখন রাত নেমে আসত, আমরা বুঝতে পারতাম আমাদের এসবের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। ছবির সিনেমাটোগ্রাফার রজার ডিকিন্স জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্রের আবহ এমন ছিল প্রায়ই শ্যুটিং চলাকালে আমি উত্তেজনা অনুভব করতাম। বিশেষ করে ছাদে কাজ করার দৃশ্যটা আমাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। কঠিন সেই রোদে কাজ করতে গিয়ে মর্গান ফ্রিম্যানদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। আর পুরো কাজটাই খুব বেশি নিখুঁত হতে হয়েছিল। মর্গান ফ্রিম্যান আগেই নেপথ্য কণ্ঠ দিয়ে রেখেছিলেন। আর সে সময় মতেই অভিনেতাদের শ্যুটিং শেষ করতেই হতো। নয়তো আবারও শুরু থেকেই শ্যুট। তবে সবকিছুই যে একেবারেই নিখুঁত ছিল তা নয়। ডারাবন্টের কাছে এটিই ছিল প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। অন্যদিকে অভিনেতাদের প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে পরিচালক ডারাবন্টের বেশ কয়েকবারই কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলে জানান মর্গান ফ্রিম্যান। তিনি বলেন, ‘অভিনয় করে যাওয়াটা খুব কঠিন কিছু না। কিন্তু কণ্ঠ না মেলার কারণে বারবার একই শট নিতে থাকা শক্তি আর সময়ের নষ্ট করে দেয়। ছবির একপর্যায়ে গার্ডরা অ্যান্ডির পালানো পথ অনুসরণ করছিল। ওখানে আমার কাজ ছিল কেবল শুনে যাওয়া আর হাসতে থাকা। কিন্তু আমাকে অনেকবার সেই কাজটি করতে হয়েছে।’ শ্যুটিং সেটের এমন অভিযোগও অবশ্য মেনে নিয়েছিলেন পরিচালক ফ্রাঙ্ক ডারাবন্ট। ‘আমি অনেক কিছুই শিখেছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম, প্রতিটি পরিচালকেরই নিজের ভেতর এমন এক ক্ষমতা থাকা উচিত, যার মাধ্যমে সে বুঝতে পারে একজন অভিনেতা আসলেই কী চান।’

ছবি শেষের গল্প

‘প্রতিদিন যখন শ্যুটিংয়ের কাজ করতাম, তখন মনে হতো আমি প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছি। কিন্তু যখনই এডিটিং রুমে বসতাম, তখন সেসব যন্ত্রণার কথা ভুলে যেতাম।’ পরিচালক ডারাবন্টের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ছবির কাজ দর্শকের চোখে কতটা ভালো হতে পারে। ছবির শেষ দৃশ্য শ্যুট করা হয় মেক্সিকোতে। ঠিক যেমনটা স্টিফেন কিং তার উপন্যাসে লিখেছিলেন। যদিও লিজ গ্লটজার তাতে সায় দেননি।

সব মিলিয়ে ছবি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। তবে হলে সে অর্থে লোক সমাগম হয়নি। গ্লটজার বলেন, ‘আমার মনে আছে আমি আর ডারাবন্ট কাছের এক থিয়েটারে ছবি দেখতে যাই। কিন্তু থিয়েটার ছিল খালি। আমরা নিজেরাই দুজন মেয়ের কাছে টিকিট বিক্রি করি আর বলি, ভালো না লাগলে যেন পরদিনই ক্যাসেল রক এন্টারটেইনমেন্টে রিফান্ডের দাবি নিয়ে আসেন।’ তবে এর পেছনে কারণও ছিল। ১৯৯৪ সালেই মুক্তি পায় আরও দুই কালজয়ী চলচ্চিত্র ফরেস্ট গাম্প ও পাল্প ফিকশন। যার কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে শশাঙ্ক রিডেম্পশন। কিন্তু ১৯৯৫ সালের শুরুতেই অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের জন্য সাতটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই ভাগ্য ঘুরে যায় শশাঙ্ক রিডেম্পশনের। অস্কার না পেলেও পরে সর্বকালের সেরা ছবির তকমা ঠিকই নিজের করে নিয়েছিল শশাঙ্ক রিডেম্পশন।