মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু ও ভবনের নামকরণ করার কাজ শুরু করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভার সুপারিশ অনুযায়ী কাজটি বাস্তবায়ন করছে পাঁচ থেকে ছয়টি মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক, জনপথ ও সেতু মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ চিঠির পাওয়ার পর সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলেও জানা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটসহ সব সরকারি স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে রাস্তাঘাট, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি স্থাপনার নামকরণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫/৬টি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তারা (মন্ত্রণালয়) কাজও শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাটের নামকরণের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রস্তাব করবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে তারা তা যাচাই-বাছাই করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেবে। এরপর সব কিছু ঠিক থাকলে তা চূড়ান্ত করা হবে। আর সেতুসহ বড় বড় স্থাপনার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে জাতীয় কমিটি আছে। সেই কমিটি চূড়ান্ত করবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে প্রতিষ্ঠান ও ভবনের নামকরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অধীনস্ত গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পূর্বাচল তিনশ ফুট রাস্তাটি নামকরণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে রাজউক।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় কমিটির সভাপতি শাহাজাহান খানের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও এ বিষয়ে একই ঐকমত্যে পৌঁছার পর মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এরপর গত ৩০ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. সৈয়দ শাহজাহান আহমেদ গণপূর্ত সচিবের কাছে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান/ভবনের নামকরণের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বিবোচনা করা যেতে পারে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংগ্রহের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই করা যেতে পারে।’ এ চিঠির পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ছিদ্দিকুর রহমান ১১টি সংস্থা প্রধানকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন। এরমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, প্রধান স্থপতি, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, মহাপরিচালক এইচ বি আর আই, পরিচালক নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিচালক সরকারি আবাসন পরিদপ্তর, রেজিস্ট্রার কোর্ট অব সেটেলমেন্ট ও পরিচালক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অধিদপ্তর।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. ফোরকান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। আগামী বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে নির্দেশনা পেয়েছি। সরকারের এ ভালো উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরাও আনন্দিত। গণপূর্ত অধিদপ্তরের যত স্থাপনা আছে সেখানে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের বিষয়টি প্রাশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করব।