ঋণ আর স্ত্রীর টাকায় প্রার্থীদের নির্বাচন

খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে অধিকাংশ প্রার্থী খুবই গরিব। তাদের মধ্যে কারও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিসি ঋণ রয়েছে, কারও আবার স্ত্রী সম্পদশালী। দায়দেনা আর স্ত্রীর টাকার ওপর ভরসা করে নির্বাচনে নেমেছেন তারা। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া চার মেয়র প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চালনা পৌরসভার বর্তমান মেয়র সনৎ কুমার বিশ্বাস। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়দেনা ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড চালনা বাজার শাখায় ৪ লাখ টাকা স্ত্রীর নামে দায় রয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুসারে, তার স্থাবর সম্পদ পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কৃষিজমির পরিমাণ ৪ একর ও অকৃষি ৫ একর। তার ওপর নির্ভরশীল আর কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় নেই। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার হাতে নগদ আছে ২০ হাজার টাকা ও ১৫ তোলা স্বর্ণ এবং প্রায় ঢেড় লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী। মেয়র হিসেবে ভাতার কথা উল্লেখ রয়েছে কিন্তু কত টাকা সেটা নেই। তা ছাড়া তিনতলা ভবনের বাড়ি থাকলেও উল্লেখ করেননি হলফনামায়। হলফনামায় স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ আছে কি না, তা উল্লেখ করেননি।

বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদে মো. আবুল খয়ের খান। এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দাকোপ শাখায় ৩ লাখ টাকা দায় রয়েছে। বিভিন্ন খাতে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা। তার বার্ষিক আয় হিসেবে বাড়িভাড়া বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার, কৃষি খাত থেকে ৬২ হাজার ৫০০ ও ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে ১ লাখ। ব্যাংক হিসেবে জমা আছে ৫ হাজার টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ১০ হাজার টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে আছে ১১ দশমিক ২১৫ একর কৃষি জমি। অকৃষি জমি রয়েছে শূন্য দশমিক ৮১৩৭৫ একর। এ ছাড়া আছে একতলাবিশিষ্ট একটি বাড়ি। তার স্ত্রীর নামে কোনো অর্থসম্পদ নেই।

সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মন্ডল। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি ও পিএইচডি। তার পেশা বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। হলফনামার তথ্য অনুসারে, তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৪ টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১৬ দশমিক ৮৭৪ একর জমি রয়েছে। তবে অচিন্ত্য মন্ডলের স্ত্রী নন্দিতা রানীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৮ লাখ, সঞ্চয়পত্র আছে ২২ লাখ এবং হাতে নগদ ১ লাখ টাকা রয়েছে।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গৌতম কুমার রায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেন কৃষিকাজ, গোসেবা ও ভক্তসেবা। হলফনামায় দেখা গেছে, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তবে কৃষি থেকে আয় হলেও কোনো কৃষিজমি নেই।