বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তির দিনটিকে বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ‘হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করবে। কারণ এটা শুধু দেশের জনগণ নয়, বিশ^বাসী জানে যে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতে হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ‘ভোট ডাকাতি’ করে নিয়ে গেছে।’ গতকাল শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ীর তাঁতীপাড়ার তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আজকাল ভোটারদের মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পর্কে দেশের মানুষ প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন, এই ইসি ভোট চুরি করছে। জনগণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তার কমিশনারদের বলছে চোর, তারা বক্তৃতার নামে টাকা চুরি করছে। দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে এবং তারা ইসির পদত্যাগ দাবি করছেন, এর চেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায় আর কিছুই নেই। তারপরও লজ্জাহীন, শরমহীন কমিশনাররা পদত্যাগ করছেন না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের হাল-হকিকত একই আছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবে। কারণ দলের বক্তব্য নিয়ে অন্য সময় জনগণের সামনে যাওয়া যায় না, জনগণের সঙ্গে কথা বলা যায় না। গেলেই নানা অজুহাত তুলে আওয়ামী লীগ হামলা করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দেয়। নির্বাচনের সময় বাধা দেয় না।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তর সালে বাকশাল কায়েম করতে না পেরে আওয়ামী লীগ মনের ভেতর যে সুপ্ত বাসনা লুকিয়ে রেখেছিল, সেটাকে আজ তারা ভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, পার্লামেন্ট সবকিছু তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে, যেটা দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আজকে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিরাচরিত অভ্যাস দুর্নীতি করা, চুরি করা। করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও এই মোহ ছাড়তে পারছে না তারা। ৩ ডলারের ভ্যাকসিন ৫ ডলার দিয়ে কিনছে, বাংলাদেশের এই অতিরিক্ত দেড় ডলার কোনো মন্ত্রী-এমপির পকেট থেকে যাবে না, যাবে জনগণের প্রদত্ত ট্যাক্স থেকে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ ঠিক করেছে কী দামে, কী মূল্যে দেশের নাগরিকরা টিকা পাবে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই বিষয়ে রোডম্যাপ করা হলেও পরিষ্কার করা হয়নি; যা এখনো অস্বচ্ছ রয়ে গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ প্রমুখ।