দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় গত প্রায় সাড়ে সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৮৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ২৩১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৯ মে ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে কম ৬৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এছাড়া প্রায় পাঁচ মাস পর গতকাল দৈনিক শনাক্ত হাজারের নিচে নেমেছে। এর আগে গত ২ আগস্ট ঈদুল আজহার পরের দিন শনাক্ত হাজারের নিচে নেমেছিল। গতকাল রোগী শনাক্ত কমার একটি কারণ নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হওয়া।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ৯১২টি নমুনা পরীক্ষায় ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার সংখ্যা প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং শনাক্তের হার সাড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
এদিকে নতুন শনাক্ত কমে আসলে করোনায় মৃত্যু কিছুতেই কমছে না। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিন মৃতদের মধ্যে ২০ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ২৬ জনের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। এদিকে শেষ এক সপ্তাহে দেশে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ এক সপ্তাহে (২০-২৬ ডিসেম্বর) ৯৬ হাজার ৮৯৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৩৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮২টি নমুনা পরীক্ষায় ১০ হাজার ৩৮২ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা মাত্র ৮ শতাংশের মতো কমলেও রোগী শনাক্ত কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এছাড়া শেষ সপ্তাহে মৃত্যু কমেছে ১৬ শতাংশের বেশি। আগের সপ্তাহে ২২২ জনের বিপরীতে শেষ সপ্তাহে মারা গেছে ১৮৬ জন। একইসঙ্গে শেষ সপ্তাহে সুস্থতা কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৯৪তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সর্বমোট ১৬৩টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি জিন-এক্সপার্ট, ২৯টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং বাকিগুলো আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৯ হাজার ৬৬১টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৯১২টির। এসব পরীক্ষায় ৮৩৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৬৮৫ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩১ লাখ ৫৯ হাজার ২৬০টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৪২৮ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৩ ও নারী ৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০, চট্টগ্রামে ৭ এবং খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২১, ৫১-৬০ বছরের ৫ এবং ৪১-৫০ বছরের ছিল ৪ জন। ৩০ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৬৫৯ ও নারী ১ হাজার ৭৬৯ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ১৮ ও নারী ২৩ দশমিক ৮২ ভাগ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৮৬, খুলনায় ৫২৩, রাজশাহীতে ৪৩১, রংপুরে ৩৩৪, সিলেটে ২৯০, বরিশালে ২৩৬ এবং সর্বনিম্ন ১৬৪ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৯ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৪৫১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ৮৫৪ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ২২৫ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৫১০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫০৫টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩১৬টিতে।