একাদশ সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ

নিজ নিজ কর্মসূচিতে মাঠে থাকবে আ.লীগ-বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ বুধবার। ২০১৮ সালের এই দিনে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উল্লেখ করে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীনরা। আর দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পক্ষে ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা প্রতীকে গণরায় প্রদান করে। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী, ১৫ আগস্ট, জেলহত্যা ও ২১ আগস্টের খুনি এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেশের জনগণ।

তারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে একটি বিজয়ের মাইলফলক। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আস্ফালন আর সহিংস রাজনীতির অন্ধকার ছায়া কাটিয়ে গণতন্ত্রের নবতর অভিযাত্রায় অগ্রসর হয় বাংলাদেশ। তাই দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করেন তারা। আর তাই দেশব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর দুটি স্থানে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। বেলা ১১টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা কবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের বিজয়ের উৎসব উদযাপন করব। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির মতো একটা সন্ত্রাসী রাজনৈতিক অপশক্তির জ্বালাও-পোড়াও দাবানলের মুখেও বাংলাদেশের মানুষ যে গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে সমুন্নত রেখেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশ যে গণতান্ত্রিক ধারায় সাংবিধানিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে এ লক্ষ্যে আমরা এ দিবসটি গণতন্ত্রের উত্তরণ, সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিজয়ের জন্য দিনটিকে আমরা পালন করছি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক অপশক্তি বিএনপি নামক এই দলটি নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য তথাকথিত গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে চায়। জনগণই তাদের অপকর্মের সমুচিত জবাব দেবে। আর কর্মসূচির নামে কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।’

অন্যদিকে বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিন ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় সমাবেশ করবে। দলের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে। কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ফাঁদে পা না দিতে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এতে বিএনপির জাতীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

রিজভী বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর “ভোট ডাকাতি” হয়েছে। তাই এই দিনটিকে দেশবাসী ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে অভাবনীয় রেকর্ড সৃষ্টিকারী রাতে র‌্যাব-পুলিশের সহায়তায় ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে ক্ষমতা দখলের দুই বছর পূর্ণ হবে মঙ্গলবার রাতে। ওই রাতটি দেশবাসীর কাছে ভোটাধিকার হরণের কালো রাত হিসেবে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে।’