হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন আহমদ শফী আল মাদানী। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদিক সম্মেলন আল্লামা শফীকে ‘নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন’ চালিয়ে হত্যার অভিযোগ করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান তার পরিবার ও হেফাজতের একাংশের নেতারা।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, আমাকে বাবার মৃত্যুর বিষয়ে জিম্মি করে আমাদের কিছু বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল। ইউসুফ বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরী বারবার বলছেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে। এর পক্ষে তিনি আমার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে বড় দলিল হিসেবে উপস্থাপন করছেন। অথচ আমার কাছ থেকে জোর করে এই স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল ২২ সেপ্টেম্বর। সেটি প্রচার করা হয়েছে এক সপ্তাহ পর। তাছাড়া আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর আগের তিন দিন হাটহাজারী মাদ্রাসায় নারকীয় তা-ব ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছিল। তার অফিস কক্ষ ও হাটহাজারী মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকের কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুনিয়াবাসী দেখেছেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে অতি প্রয়োজনীয় ওধুষ দেওয়া হয়নি।
আহমদ শফীর ছেলে বলেন, ‘উগ্রগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার সহজ-সরল ছাত্রদের উসকানি দেওয়া হয়। সবকিছুই তো দেশবাসীর সামনে ঘটেছে। তারপরও বলতে হবে, আল্লামা শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে? আরও জঘন্যতম বিষয় হলো, হেফাজতের তথাকথিত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২৩ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের সামনে বসিয়ে রেখে বলেছেন, হুজুরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।’
বিষয়টি চরম মিথ্যাচার উল্লেখ করে নিন্দা জানান ইউসুফ। তিনি বলেন, এরকম নির্লজ্জ মিথ্যাচারের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দেশের শীর্ষ এই প্রতিষ্ঠানের মুহাদ্দিসদের সামনে যেভাবে তিনি মিথ্যাচার করেছেন, আল্লাহতায়ালার দরবারে এর জন্য কী জবাব দেবেন? অথচ জেনেশুনেও তারা এই মিথ্যাচারগুলো শুনে গেছেন, একটু প্রতিবাদ করার সাহসও কারও হয়নি! এটা কি আলেমদের স্বভাববিরোধী নয়?’
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আহমদ শফীর আরেক ছেলে আনাস বিন আহমদ শফী (আনাস মাদানী), আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ প্রমুখ।