বাজারে এখনো দেশীয় সজনে না ওঠা, দেশের বাজারে সজনের ভালো চাহিদা থাকায় ও দাম ভালো পাওয়ায় সজনের চাহিদা মেটাতে ৯ মাস পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সজনে আমদানি শুরু হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমদানি করা এসব সজনে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ভারত থেকে একটি মিনি পিকআপের মাধ্যমে ২ টন ৩শ কেজি সজনে আমদানির মধ্য দিয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পুনরায় দেশে সজনে আমদানি শুরু হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সজনে আমদানি করা হয়েছিল।
প্রথম দিনে আমদানি হওয়া সজনে থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার টাকার মতো।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মেসার্স খান ট্রেডার্স এই সজনে আমদানি করছেন ও ভারতের হিলির রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জগৎবাবা এন্টারপ্রাইজ এই সজনে রপ্তানি করছেন। দেশের বাজারে আমদানি করা এসব সজনে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
হিলি বাজারের সবজি বিক্রেতা নুর আলম বলেন, আমদানিকৃত এসব সজনে হিলিতে বিক্রি হয় না, এগুলো ঢাকাসহ দেশের অন্য স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে আমাদের হিলি বাজারে সম্প্রতি রাজশাহী থেকে সজনে আসছে, যা ২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এখন যেহেতু অফসিজিন তাই দাম একটু বেশি, তবে নতুন সজনে উঠা শুরু করলে দাম অনেকটা কমে আসবে।
সজনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিলির মেসার্স খান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন জানান, এখনো দেশের বাজারে দেশীয় জাতের সজনে উঠেনি, যার কারণে সজনের বেশ চাহিদা রয়েছে।
এছাড়াও স্বাদ ও দেখতে বেশ মোটা হওয়ার কারণে দেশের বাজারে ভারতীয় সজনের বেশ চাহিদাও রয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের বাজারে সজনের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ ৯ মাস পর আবারও ভারত থেকে সজনে আমদানি করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি টন সজনে ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে, আর কাস্টমসে শুল্কায়ন করা হচ্ছে প্রতি টন ৫শ মার্কিন ডলার মূল্যে। এতে করে কেজি প্রতি সজনেতে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকার মতো। এর সঙ্গে বন্দরের অন্যান্য মাশুলসহ ১৮ থেকে ২০ টাকার মতো খরচ পড়ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সজনে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে দেশীয় সজনে এখনো না উঠায় আমদানি করা সজনের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশীয় জাতের সজনে উঠতে শুরু করলে দেশের বাজারে দেশীয় সজনের সরবরাহ শুরু হলে বন্দর দিয়ে সজনের আমদানি যেমন বন্ধ হয়ে যাবে, তেমনি দামও কমবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে পণ্য আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর দিয়ে সাধারণত পাথর, খৈল, ভুসি, ভুট্টা, ভুসি, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। তবে গতকাল থেকে এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভারত থেকে সজনে আমদানি।
গতকাল বন্দর দিয়ে প্রথম দিনের মতো ১টি মিনি পিকআপের মাধ্যমে ২টন ৩শ কেজি সজনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে।
পণ্যটি কাঁচামাল হওয়ায় অতি দ্রুত পণ্যটির পরীক্ষণ শুল্কায়ন, শুল্ক আহরণসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহের উদ্দেশ্যে দ্রুত ছাড় করণ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ধরনের পণ্য আমদানি হওয়ায় বন্দরের প্রতিদিনের আয় যেমন বেড়েছে তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।